প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিশাল বেআইনি সাম্রাজ্যের ঘটনায় (Tulu Mondal DCR scam) এবার মুর্শিদাবাদের ডোমকলে (Domkal) হানা দিল বীরভূম জেলা পুলিশ (Birbhum Police Raids)। জানা গিয়েছে শনিবার রাতে অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের (Saigal Hossain) বাড়িতে মূলত তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। গোটা ঘটনায় এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রবীরের শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার কালো ব্যাগ
কিছুদিন আগেই টুলু মণ্ডলের DCR জালিয়াতিকাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। বোলপুরে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ ১৩ লক্ষ টাকা এবং ৮০০ গ্রাম সোনা। এছাড়াও সৌদি আরব, পাকিস্তানের মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এমতাবস্থায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল, বহরমপুরে টুলু ঘনিষ্ঠ প্রবীর দাসের শ্বশুরবাড়িতে যায় বীরভূম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। সেখানে তল্লাশির পর একটি কালো ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায় পুলিশ। অনুমান ওই ব্যাগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। কিন্তু ওই নথিগুলি কিসের, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারচুপি
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রবীর পেশায় মহম্মদবাজার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে করণিক পদে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও সরকারি চেকপোস্টে ডিআরসি কাটার রস্টার তৈরির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে টুলুর কাছ থেকে প্রতি দিন মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করার পাশাপাশি বেআইনি আর্থিক লেনদেনও করতেন। আর তার প্রমাণ পাওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে সেখানেও সায়গলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। আর সেই কারণেই এবার বীরভূমের ডোমকলে হানা দিল পুলিশ।
আরও পড়ুন: মাঝরাতে আরাবুলের গাড়িতে ছোড়া হল বোমা-ইট, চরম উত্তেজনা ভাঙড়ে
ডোমকলের বাড়িতে তদন্ত পুলিশের
সূত্রের খবর ক্লু পাওয়া মাত্রই রাতে বীরভূম পুলিশ প্রবীর দাস এবং সায়গল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যায় ডোমকলে। সেখানে সায়গলের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তদন্তকারীরা একাধিক নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চলে। জানা গিয়েছে, এখনও তাঁর বাড়িতে রয়েছে পুলিশকর্তারা। অন্যদিকে টুলুর আরও এক আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও টুলুর সন্ধানে রয়েছে পুলিশ। এদিকে আড়ালে থেকেই আদালতে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যদিও কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশি তদন্তে হস্তক্ষেপ করেনি।










