এখনই সারপ্লাস বদলি করা যাবে না, প্রাথমিকের শিক্ষকদের নিয়ে বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এখনই হচ্ছে না প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীদের সারপ্লাস বদলি (Primary Teacher Transfer)। বুধবার, এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে একথা জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বলাই বাহুল্য, এই ধরনের বদলি নিয়ে আদর্শ কার্য পদ্ধতি তৈরি করছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই মতোই শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীদের বদলির আবেদন জানানো যেতে পারে ঠিকই তবে এখনই কাউকে বদলি করা যাবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক।

সারপ্লাস বদলি নিয়ে যা জানাচ্ছে হাইকোর্ট

রাজ্যে এমন বহু প্রাথমিক স্কুল রয়েছে যেখানে ছাত্রের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। একইভাবে আবার এমন স্কুলও রয়েছে যেখানে ছাত্রের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটাই কম। কাজেই ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ঠিক রাখতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। 2009 সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক 30 জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য 1 জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আদর্শ অনুপাত। তবে বাংলার একাধিক স্কুলে সেই নিয়ম মানা হচ্ছিল না।

বাংলায় পালা বদলের পরই রাজ্যের নতুন সরকার স্কুলগুলির সংস্কারের উপর জোর দিয়েছে। সেই সাথে সরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্র এবং শিক্ষকের অনুপাতে ভারসাম্য আনতে সারপ্লাস বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল যাঁরা এই বদলি নিতে ইচ্ছুক তাঁরা আবেদন করতে পারেন। সেই মর্মেই তৈরি হয় আদর্শ কার্যপদ্ধতি। গত 15 জুলাই নিয়ম মেনে তা প্রকাশও করে সরকার। এরপর 24 জুলাই নতুন আরেকটি কার্যপদ্ধতি প্রকাশ করা হয় সরকারের তরফে।

অবশ্যই পড়ুন: ভয়াবহ বন্যা চিনে, জলের তলে একাধিক শহর! ভিডিও দেখিয়ে ভারতের সাথে তুলনা

সরকারের এই পদক্ষেপের পরই দুই এসওপি নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাংশ। আদালতে তাঁদের বক্তব্য ছিল, সারপ্লাস বদলির ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে একটা বিভ্রান্তি রয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে কারা আগে বেশি প্রাধান্য পাবেন সেটা স্পষ্ট করা হয়নি। বয়সে বেশি হওয়ায় প্রবীণ হিসেবে প্রাধান্য পাবেন নাকি কর্মজীবন বেশি হলে প্রাধান্য দেওয়া হবে? বুধবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্পষ্ট জানালেন, এখনই আদর্শ কার্যপদ্ধতির ভিত্তিতে কাউকে বদলি করা যাবে না।