বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহে এক ব্যক্তিকে প্রায় দু মাস আটকে রাখার ঘটনায় এবার প্রশ্ন তুলল খোদ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, আটকে রেখে বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে তো? এদিন উচ্চ আদালত এও জানতে চায়, 1970 এর দশকে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতবর্ষে চলে এসেছিল তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?
বাংলাদেশি সন্দেহে 2 মাস ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনায় প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের
বৃহস্পতিবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুরু হয় শুনানি। বাংলাদেশি সন্দেহে এক ব্যক্তিকে প্রায় দুমাস আটকে রাখার ঘটনায় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “1970 এর দশকে সীমান্ত পেরিয়ে কত মানুষ ভারতে এসেছিলেন? সেই সময় যাঁরা সীমানা পেরিয়ে এদেশে চলে আসেন, তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?” বিচারপতির বক্তব্য, মূলত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গেলে এমন বহু মানুষের সন্ধান মিলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যায় না।
জানা গিয়েছে, গত 8 আগস্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য যেসব যুক্তি এবং তথ্য দেখানো হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে কি কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়? এদিন এমন প্রশ্নও করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এদিকে রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, যদি কোনও ব্যক্তি জাল নথি ব্যবহার করে আধার বা প্যান কার্ডের মতো নথি তৈরি করে তবে তার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: মোটা সুদ সহ ক্ষতিপূরণ পাবেন বরখাস্ত শিক্ষকরা, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেলের বক্তব্য শোনার পরই আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কাউকে দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁর জাতীয়তা সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং নথি যাচাই করে নেওয়া দরকার। এদিন আদালতের শুনানিতে আরও জানা যায়, মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকার মধ্যেই ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন অর্ডার জারি করেছেন। তা নিয়েও প্রশ্ন দলে কলকাতা হাইকোর্ট। সবশেষে মামলাটিকে উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। আগামী 14 অক্টোবর বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে।










