অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের শুনানি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Camac street tmc

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির (Abhishek Banerjee) ক্যামাক স্ট্রিটের (Camac Street) দলীয় দফতর খালি করার নোটিসকে ঘিরে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলা ফের নিম্ন আদালতে পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সন্দীপকুমার দে-র ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। তাই সিটি সিভিল কোর্টেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ আদালতের

এই প্রসঙ্গে হাই কোর্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, পুজোর ছুটি শেষ হলেই আদালতের স্বাভাবিক কাজ শুরু হওয়ার। আর এই কাজ শুরুর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সম্পত্তি খালি করার নোটিস নিয়ে দেওয়া ‘ইনজাংশন’ বা ‘স্টেটাস কো’-র বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। শুনানির ক্ষেত্রে কোনও পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না রেখে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে সিটি সিভিল কোর্টের বিচারপতি সুধীর কুমার জানিয়েছিলেন, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাড়ির মালিক।

দমকলের নোটিস ঘিরে নতুন জটিলতা

৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম তলায় রয়েছে অভিষেকের দফতর। গত ২৭ অগস্ট সেখানে বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে রীতিমতো ঝামেলা বেঁধে যায়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদেরবচসা বাধে। পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এর মধ্যেই দমকল বিভাগ ওই ভবনের মালিককে নোটিস দেয়, এই নোটিসে বলা হয় সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা যথাযথ নয়। সেই কারণে জায়গাটি খালি করার কথা বলা হয়। এরপর মালিকপক্ষও দফতর খালি করার নির্দেশ দেয়। যদিও ১১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ দমকলের নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বদলে গেল সরকারি স্কলারশিপের একাধিক নিয়ম, নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

সম্পত্তির মালিক রামাদেবী গোয়েন্‌কার আইনজীবী সাগ্নিকা ব্যানার্জির দাবি, ২০২০ সালের ১ মার্চ যুব তৃণমূলের সঙ্গে মালিকের একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে ওই ভবনটি ১০ বছরের জন্য ইজারা নেওয়ার কথা লেখা থাকে। তাতে তৃণমূলের হয়ে সই করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। চুক্তি অনুযায়ী মালিকপক্ষের ‘সিসি’ দেওয়ার পর দফতর ব্যবহারের কথা থাকলেও তা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি আইনজীবীর। তাঁর অভিযোগ, এরপরও তৃণমূল দফতরের দখল নেয়। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক শিবির দাবি করেন, রাজ্যের শাসকদলের প্ররোচনায় ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।