বাংলায় বিনিয়োগের লক্ষ্য কানাডার, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সারলেন হাই কমিশনার

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের পালা বদলের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং সমাজ কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের কথা ভেবে রাজ্যে শিল্পসংস্থান বৃদ্ধিতে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার। এমতাবস্থায় শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে সোমবার নবান্নে (Nabanna) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ দেখালেন কানাডা (Canada) সরকারের প্রতিনিধি তথা এ দেশে কানাডার হাই কমিশনার ক্রিস কুটার (Christopher Cooter)।

রাজ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে তৎপর বিজেপি

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট নিয়ে বিরোধীদের তরফে একাধিক কটাক্ষ করা হয়েছিল। কত বিনিয়োগ এসেছে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এমনকি সেই সময় শিল্প সম্মেলন বাবদ কত টাকা খরচ হয়েছিল সে প্রশ্নও ধারাবাহিক ভাবে তুলেছিলেন সেই সময়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার পরিবর্তন হয়েছে সরকার। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই শিল্পের বিনিয়োগ নিয়ে নানারকম পদক্ষেপ করে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এমতাবস্থায় গতকাল, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করলেন কানাডার হাই কমিশনার।

কানাডার হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন কানাডা সরকারের প্রতিনিধি তথা কানাডার হাই কমিশনার ক্রিস কুটার। মূলত রাজ্যে ইস্পাত-বন্দর-পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে এদিন আলোচনা চলে দুজনের মধ্যে। এদিনের বৈঠকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন না, তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-ও। চলতি বাজেটে রাজ্যে শিল্পের পরিকাঠামো থেকে কৃষি, বিমানবন্দর, গভীর সমুদ্র বন্দর— সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ-সহায়ক পরিবেশ তৈরির বার্তা দিয়েছে সরকার। আর তাই সেই কথা মাথায় রেখেই এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের কাছে।

বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ কানাডার

জানা গিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরেই ভারত এবং কানাডার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর হওয়ার কথা। তাতে আশা করা যাচ্ছে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়বে। এই অবস্থায় দেশের অন্দরে প্রাথমিক ভাবে তিনটি বড় ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। কিছুদিন আগেই কলকাতার বিকল্প একটি বিমানবন্দরের জন্য কল্যাণীকে বেছে নিয়েছে রাজ্য। তাই এবার স্বাভাবিক ভাবেই সেই পরিকাঠামোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে কানাডার। এমনিতেই বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের কাজে কানাডার বিনিয়োগ রয়েছে। তবে ওই বিমানবন্দর ছাড়াও কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় জেলাস্তরে আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের পরিকাঠামো গড়তে চায় নবান্ন।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই অ্যাকশনে পুলিশ, হুমায়ুনের সভা বিতর্কে গ্রেফতার দুই

সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দরের ঘোষণা করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের তরফ থেকে। পিপিপি বা বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যৌথ ভাবে সেই কাজের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবার তাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে কানাডা। এমনকি কৃষি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মাটির গুণমান বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি দিয়েও সহায়তা করতে চায় সে দেশ। চা শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি, খনি, তথ্যপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, পর্যটন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে। সব মিলিয়ে তাই এ দিনের বৈঠককে ইতিবাচক বলে মনে করছে দু’পক্ষই। এখন দেখার সব মিলিয়ে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়।