অনন্যা সরকার, বীরভূম: এতদিন পুজো (Durga Puja) আসলেই গ্রামের মানুষগুলোর মন ভার হয়ে যেত। মা দুর্গার মুখটুকু দেখতেও ছুটতে হতো অন্য গ্রামে। তবে এ বছর বীরভূম জেলার মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ভগবতীপুর গ্রামে প্রথমবারের মতো দুর্গাপুজোয় শোনা যাবে ঢাকের আওয়াজ। মাত্র ৬২ জন হিন্দু বাসিন্দার এই প্রত্যন্ত গ্রামে আর্থিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন বারোয়ারি দুর্গাপুজো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবছর রাজ্য সরকার নতুন পুজোর আয়োজনের জন্য ১ লক্ষ টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করেছে। পাশাপাশি, নবগঠিত সরকারের সক্রিয় প্রশাসনিক সহায়তায় ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে যোগদান করতে চলেছেন ভগবতীপুরের বাসিন্দারাও।
সরকারি অনুদানে ভগবতীপুরে প্রথমবার হবে দুর্গাপুজো
বীরভূমের মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ভগবতীপুর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। মাত্র ৬২ জন হিন্দু বাসিন্দা এখানে বসবাস করেন। জনবল ও আর্থিক সম্পদের অভাবে বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামে স্থানীয়ভাবে দুর্গাপুজো আয়োজন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নিজের গ্রামে পুজো না হওয়ায় উৎসবের দিনগুলিতে বাসিন্দাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের পূজা মণ্ডপগুলোতেই যেতে হতো। ফলে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দ থেকে ভগবতীপুরের এই পরিবারগুলি অনেকাংশেই বঞ্চিত থেকে যেত।
তবে এবছর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর, নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে ছোট ও প্রত্যন্ত পূজা কমিটিগুলোকে ১ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে অনুন্নত এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে সফলভাবে দুর্গাপুজো উদযাপনের জন্য এ বছর ১২,৪০০টি নতুন পুজোকে সরকারি স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে পাঁচটি নতুন ইলেকট্রিক এসি বাস চালু করল SBSTC, কোন কোন রুটে চলবে?
ভগবতীপুরের মতো ছোট ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলি এই অনুদান-প্রাপকদের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা এই গ্রামের ৬২ জন বাসিন্দার জন্য খুবই আনন্দের হয়ে উঠেছে। ১ লক্ষ টাকার এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে গ্রামবাসীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে মা দুর্গার আবাহনের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।










