প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন, তাই জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো (Durga Puja 2026) প্রস্তুতি। এদিকে ক্লাবে ক্লাবে পুজোর অনুদান (Durga Puja Grant) দেওয়া নিয়েও বেশ কড়াকড়ি নবান্ন (Nabanna)। কারণ দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান বণ্টনে এবার আর কোনওরকম ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না প্রশাসন। অনুদানের টাকা ঠিক জায়গায় যাচ্ছে কিনা, কীভাবে সেই বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে, তার উপর কড়া নজরদারি রাখতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Government Of West Bengal)। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন।
পুজোয় অনুদান নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা
সম্প্রতি দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজো কমিটিগুলো এবার এক লক্ষ টাকা করে অনুদান পাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ ছিল, বড় বড় পুজো কমিটিগুলো যেন অনুদানের সাহায্য না নেয়। যদিও সকল পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাই গোটা অনুদানের প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে সরকারি অনুদান পেতে হলে পুজো কমিটির নিজস্ব নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, শুধু তাই নয় এছাড়াও থাকছে একাধিক নিয়ম।
থাকতে হবে পুজো কমিটির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
পুজো আয়োজকদের অর্থ প্রদানে স্বচ্ছতা রাখতে একগুচ্ছ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে নবান্নের তরফে। অনুদান পেতে যে ফর্মপূরণ করতে হবে, তাতে পুজো কমিটিগুলিকে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, পুজো কমিটির নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ছাড়া মিলবে না টাকা। কোনও ব্যক্তি বিশেষের বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা পাঠানোর আর কোনও সুযোগ থাকছে না। তাই যে সব পুজো কমিটির নামে এখনও নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, সরকারি সুবিধা পেতে তাদের দ্রুত অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং পুজো কমিটির সভাপতি অথবা সম্পাদককে নিজেদের কমিটির লেটারহেডে আবেদনপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: পুজোর মুখে ফের ED অভিযান কলকাতায়, চিটফান্ড কাণ্ডে সাতসকালে ১৭টি জায়গায় তল্লাশি
আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে
পুজো কমিটির আবেদনে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য কমিটির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের একটি ক্যানসেলড চেক এবং পাসবুকের প্রথম পাতার প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি অনুমতির জন্য আবেদনকারীদের গত বছরের পুজোর অনুমতিপত্রের প্রতিলিপি এবং আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। গত বছর যে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছিল, তার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট কপি এবং অনলাইন আবেদনপত্রের প্রতিলিপি জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, পালাবদলের পর বাংলায় প্রথম বিজেপির আমলে দুর্গাপূজা হতে চলেছে। তাই একাধিক ক্ষেত্রে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মাতৃপক্ষের আগে কোনও পুজো উদ্বোধন হবে না। মহালয়ার পরই হবে শুভ উদ্বোধন। এমনকি পূর্বে পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর রেড রোডে যে কার্নিভ্যালও হত সেই কার্নিভ্যালও বন্ধ করা হয়েছে বিজেপি সরকারের তরফে।










