আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হোস্টেলের খাবারে আরশোলা, টিকটিকি পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। খাবারের গুণমান নিয়ে কমবেশি সমস্ত পড়ুয়াদেরই অনেক অভিযোগ থাকে। তবে এবার যে তথ্য সামনে এসেছে, তা সাংঘাতিক। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে (Berhampore) ছাত্রীদের হস্টেলের (Girls Hostel) খাবার ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের খাবার খাওয়ার পর একসঙ্গে ৪৪ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। অসুস্থ ছাত্রীদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে (Murshidabad Medical College) নিয়ে যাওয়া হয়। খাবারে মাদক (Drug) মেশানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন হস্টেলের আবাসিকরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনাটি ঘটেছে টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতে হস্টেলে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা। ছাত্রীদের দাবি, খাবার খাওয়ার পর তাঁদের শরীরে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। যদিও অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রান্নাঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রাঁধুনিকে খাবারে কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ফুটেজটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ছাত্রীদের আরও দাবি, পনিরের তরকারি যাঁরা খাননি, তাঁদের মধ্যে অসুস্থতার কোনও লক্ষণ নেই। তাঁরা দিব্যি সুস্থ রয়েছেন। এই বক্তব্যের সত্যতা এবং খাবারে আদৌ কোনও মাদক বা অন্য পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তার সত্যতা এই মুহূর্তে তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইতিমধ্যে ছাত্রীদের তরফে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এবং রাঁধুনিকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর হস্টেল কর্তৃপক্ষের তরফে কেন সরাসরি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি? পুলিশি তদন্ত শুরু করতে কেন বিলম্ব করেছে কর্তৃপক্ষ? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রথমে অসুস্থ ছাত্রীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের পরই জানা যাবে, খাবার ঘিরে এই অসুস্থতার পিছনে আসল কারণ কী।
আরও পড়ুন: টর্চ জ্বালিয়েও প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছেন না মমতা! পুরভোট নিয়ে চিন্তায় কালীঘাট তৃণমূল
এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বহু পরিবার অনেক আশা নিয়ে তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দূরে পাঠান। যদি এমন অস্বাভাবিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির ওপর মানুষের ভরসা উঠে যাবে। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা রয়েছে বর্তমানে সেটাই জানতে চান অসুস্থ ছাত্রীদের পরিবার।










