১ মাসেই অতিরিক্ত ১,০০০ কোটি, সরকার বদলাতেই তিন মাসে রাজস্বের হার বাড়লো ১৮ শতাংশ

Published:

State Revenue

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের মাস খানেক পর থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। এখন দেখা গেল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজ্য কোষাগারে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব (State Revenue) জমা পড়ছে। তিন মাস পরের হিসাব থেকে দেখা যায় যে এই বৃদ্ধি কোনো সাময়িক ঘটনা ছিল না। শুভেন্দু আধিকারিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম তিন মাসে পশ্চিমবঙ্গে রাজস্ব আদায় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজ্যের কোষাগারে বাড়লো রাজস্বের পরিমাণ

এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা, তার সাথে বাড়ছে সরকারি ব্যয়ও। এর মধ্যে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিচ্ছে সরকারকে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় নজরদারি বৃদ্ধি, কর ফাঁকি ও ‘রাজস্ব নিঃসরণ’ (Revenue Leakage) রোধ এবং কোনও নতুন কর না যুক্ত করেই খনি ও পাথরখাদান থেকে সরকারি আয় সুনিশ্চিত করার ফলেই মূলত এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবগঠিত সরকারের প্রথম মাসেই রাজস্ব আদায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে, পরবর্তী তিন মাসের পরিসংখ্যান এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পরের তিন মাসে ফলাফল আরও  ভালো। রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগ এই ধারাবাহিক রাজস্ব আদায়কে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, করার গর বাড়িয়ে নয়, রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় অসঙ্গতি দূর করার ফলেই এই সুফল মিলেছে। 

আরও পড়ুন: কলকাতার স্কুলে পড়ুয়ার তিলক মোছার জের, শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের প্রধান রাজস্ব উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে রাজ্য জিএসটি, আবগারি শুল্ক, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি, মোটর ভেহিকেল ট্যাক্স, বিদ্যুৎ শুল্ক, ভ্যাট এবং খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি। এর পাশাপাশি খনি, বালি পাথর খাদান সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ থেকেও সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর, নতুন সরকার খনি ও পাথরখনি থেকে রয়্যালটি আদায় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবহন সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করতে ও কর ফাঁকি রোধ করতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার।

রাজস্বের পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে প্রশাসন নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। রাজস্ব ঘাটতির ক্ষেত্রগুলি শনাক্ত করার জন্য জেলা-স্তরের কর আদায়ের পরিসংখ্যান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম আড়াই মাসে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১৫%। আর তিন মাসে এটি বেড়ে ১৮% হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খনিজ ও বালির রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিধি-বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কবে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে? জানিয়ে দিলেন পূর্ব রেলের আধিকারিক

নবান্নের একাংশ জানাচ্ছে যে, এর আগে রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন স্তরে অনেক অসঙ্গতি ছিল, খনিজ সম্পদের অবৈধ পরিবহন এবং রয়্যালটি ফাঁকি রোধ করার প্রচেষ্টা দ্রুত ফল দিয়েছে, যদিও এখন চ্যালেঞ্জ হলো সারা বছর ধরে এই হার বজায় রাখা। প্রায় ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ ঋণের সুদ মেটাতেই রাজ্যের অনেক টাকা বেরিয়ে যায়, তাই রাজস্ব বৃদ্ধি না করলে উন্নয়ন প্রকল্প বজায় রাখা এবং বেতন ও পেনশন প্রদান করা কঠিন হবে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিকে অপরিহার্য করে তুলেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, তারা করের হার বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপাতে চায় না। তার পরিবর্তে করের আওতা প্রসারিত করে এবং আদায়ের দক্ষতা বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোই লক্ষ্য। সরকার কর্তৃক গৃহীত কৌশলগুলি প্রথম তিন মাসে প্রাথমিক সাফল্য দেখিয়েছে।