ঝাড়গ্রামে তোলা তুলে হাতেনাতে ধৃত পুলিশ কনস্টেবল, বাজেয়াপ্ত কয়েক লক্ষ টাকা

Published:

Police Constable Arrested

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি সরকারের তরফে বারংবার তোলাবাজি বা ঘুষ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও ঘটছে একই ঘটনা। আর এবার ঝাড়গ্রাম (Jhargram) জেলা জুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক এবং ট্রাক্টর থেকে নিয়মিত ও বেআইনিভাবে টাকা বা ‘তোলা’ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠল পুলিশের এক কর্মীর বিরুদ্ধে (Police Constable Arrested)। যদিও শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা বা ACB-র (Anti Corruption Bureau) তৎপরতায় হাতেনাতে গ্রেফতার হন এক পুলিশ কনস্টেবল এবং তাঁর তিন সঙ্গী দালাল। বাজেয়াপ্ত করা হয় সমস্ত টাকা।

তোলা তুলতে গিয়েই ধরা পড়েন তিন দালাল

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে দালালদের কাজে লাগিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবল বিভিন্ন ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে পরিকল্পিত ভাবে মোটা অংকের তোলা আদায় করছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল দুর্নীতি দমন বিভাগে। এরপরই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পরেই ওই অভিযুক্তদের ধরতে নতুন ছক কষেছিল ACB-র তদন্তকারীরা। আর সেই ফাঁদে পা দিতেই গতকাল, মঙ্গলবার ট্রাকমালিকের কাছ থেকে তোলা নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন তিন দালাল। সঙ্গে সঙ্গে আটক অভিযুক্তদের সামনাসামনি রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা। আর তখনই প্রকাশ্যে আসে ঝাড়গ্রাম থানায় কর্মরত সেই পুলিশ কনস্টেবলের নাম।

বাজেয়াপ্ত করা হয় পাঁচ লক্ষ টাকা

জেরার সময়ে অভিযুক্ত এক দালাল জানান, তোলা আদায় করে সেই টাকা পুলিশ কনস্টেবলকে দেওয়া হত। এই উপায়ে ট্রাক ও লরি মালিকদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা আদায় করে ফেলেছেন। সেই সব টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে খবর, ওই কনস্টেবলের মোবাইল নম্বর দালালের মোবাইলে সেভ ছিল ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’ নামে। এরপর নানা তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল ও তিন দালালকে গ্রেফতার করে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। তবে এই নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে। কতদিন ধরে এভাবে তোলা আদায় করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও এর সঙ্গে কোনও হেভিওয়েট ব্যক্তি কিংবা আধিকারিক জড়িত রয়েছেন কি না তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবার শুভেন্দুকে ঘিরেই তৈরি হবে দুর্গাপুজোর থিম, বানানো হবে ক্ষুদ্রতম মূর্তি

ACB-র তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, তোলাবাজির চক্রে কার কার কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই ঘুষ নিতে গিয়ে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেদের হাতে ধরা পড়েছিলেন ঝাড়গ্রামের জামবনী বিডিও অফিসের সহকারী ইঞ্জিনিয়র। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়াগায় অভিযান চালিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে একাধিক পদাধিকারীকে গ্রেফতার করেছিলেন তদন্তকারীরা। আশা করা যাচ্ছে এইভাবেই ACB মারফত গোটা রাজ্য দুর্নীতিমুক্ত হবে।