সহেলি মিত্র, কলকাতা: আরও মজবুত হতে চলেছে ভারতের রেল ব্যবস্থা। পরিধি বাড়তে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং অন্যতম ব্যস্ত রুটের। দেশের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা চিকেনস নেক (Chicken’s Neck) অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডোর-এ (Siliguri Corridor) একটি নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় রেল। রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর, ঠাকুরগঞ্জ-ছত্রহাট (রাঙ্গাপানি-ধুমডাঙ্গি) এর মধ্যে ২৪.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত স্থান সমীক্ষা বা এফএলএস এবং মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। এই কাজের ফলে বিরাটভাবে উপকৃত হবেন বাংলা ও বিহারের মানুষ। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
চিকেন নেক এলাকায় তৈরী হবে নতুন রেল রুট
রেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে পুরো রুটটি সার্ভে করবে। এরপর একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট অর্থাৎ ডিপিআর তৈরি করা হবে। ডিপিআর-এর ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং নির্মাণ কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পটি অঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ উন্নত করবে।
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন রেললাইনের জন্য মাটির নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে বোরহোল খনন করা হচ্ছে। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে মাটির শক্তি, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর এবং সেখানে রেললাইন, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা নিরাপদে নির্মাণ করা যাবে কিনা, তা নির্ধারণ করা হবে। সেতুর জলপথ, স্টেশন ইয়ার্ড, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমির প্রয়োজনীয়তা এবং যান চলাচল সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাপ কমবে বহু ট্রেনের
নতুন রেললাইনটি চিকেন নেক এলাকায় চতুর্থ রেল করিডোর তৈরি করবে। বর্তমানে এই এলাকায় তিনটি প্রধান রেল রুট চালু রয়েছে। নতুন লাইনটি ঠাকুরগঞ্জকে সরাসরি নিউ জলপাইগুড়ি প্রধান লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এর ফলে ট্রেনের জন্য একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে এবং বিদ্যমান রেললাইনগুলোর ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।
আরও পড়ুনঃ সুইমিং পুলে স্নানে নেমেই বিপদ! যুবকের অন্তর্বাসে ঢুকল সাপ, তারপর … ভাইরাল ভিডিও
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রেললাইনটি ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনের উত্তর দিক থেকে শুরু হবে। এরপর এটি শিয়ালডাঙ্গা, ধর্মকান্ত চক, বড়োবাংলা, চৈতন্যগুড়ি, যোগী টোলা, ধাপোডাঙ্গি, ডুমরিডাঙ্গি, দোহাডাঙ্গি এবং পাটিলাভাষা এলাকার ওপর দিয়ে যাবে। পাটিলাভাষা ঘাটের কাছে চেঙ্গা নদীর ওপর একটি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এরপর লাইনটি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে ছত্রহাটের কাছে মূল রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। যান্ত্রিক সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তৈরী রিপোর্টের পর চূড়ান্ত পথ নির্ধারণ করা হবে।










