দার্জিলিং থেকে সুন্দরবনে কর্মসংস্থান-শিল্পায়ন, বাংলায় ২,৩০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা ITC-র

Published:

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর শিল্পক্ষেত্র নিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রাজ্য সরকার। এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এবার ২,৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে ITC লিমিটেড। গতকাল, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের সময় এমনই প্রতাব পেশ করেছিলেন চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী। জানা গিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ লগ্নি মূলত হোটেল, কাগজ, সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্য আনুষঙ্গিক ব্যবসায় লগ্নি করা হবে।

ITC-র চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ITC-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বৈঠক হয়েছিল। জানা গিয়েছে, এদিনের এই বৈঠকে রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগ এবং পর্যটন কাঠামো আরও শক্তিশালী করে তুলতে সংস্থার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও রাজ্যে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফলে কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছে শিল্পমহল।

পর্যটন অর্থনীতি চাঙ্গা করতে একাধিক উদ্যোগ

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ITC-র ২০টি উৎপাদন কেন্দ্র এবং ৫টি হোটেল রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৭টি নতুন হোটেল প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ITC-র নতুন পরিকল্পনার আওতায় দার্জিলিং, সুন্দরবন এবং কার্শিয়াঙে বিলাসবহুল হোটেল তৈরি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরুলিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং হুগলি জেলায় কাগজের কল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবং রাজারহাটের আইটিসি গ্রিন সেন্টারে Google এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি ‘গ্লোবাল এআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-ও তৈরি করছেন ITC কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: কলকাতায় ‘রান ফর যোগা’ কর্মসূচির সূচনা, ম্যারথনে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ITC-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরীর সঙ্গে নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংস্থার এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকারই প্রদান করবে এবং ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নানা আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। অর্থাৎ জমি হাতে পেলেই দ্রুত গতিতে নতুন প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হবে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শিল্প, পর্যটন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং প্রযুক্তি এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এবার পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে চলেছে।