প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল, ৯ মে শনিবার, রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণ (BJP Oath Taking Ceremony) করতে চলেছে। গোড়া বাংলা সেই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে চলেছে। তাই শেষ মুহূর্তে চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি। আর এবার শোনা যাচ্ছে ব্রিগেডে (Brigade) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন মাঠে ঝালমুড়ি-রসগোল্লার স্টল রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয় দুর্যোগের আশঙ্কায় বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে ব্রিগেডের ময়দানে
আনা হচ্ছে বিশাল দুর্গামূর্তি
ব্রিগেডের মঞ্চটিকে তিনটি অংশে ভাগ করা হচ্ছে। বাঁদিকের অংশে থাকছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মঞ্চ, এখানে নাকি রাজ্যের মন্ত্রীরাও থাকবেন। মাঝের অংশে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল এবং ডান দিকে রাজ্য মন্ত্রিসভার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি দুটি হ্যাঙারে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বহু কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা এবং বিশিষ্ট অতিথিদের বসার কথা, সেখানে রাখা হতে চলেছে বিশাল দুর্গামূর্তি। পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন কৃতী ও আইকনিকদের প্রতিকৃতিও সাজানো হবে।
লাগানো হবে অজস্র সিসিটিভি ক্যামেরা
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কড়া নজরদারি চালানোর জন্য ব্রিগেডে বসানো হবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডোরফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর এবং পুলিশকর্মীদের হাতেও থাকবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর। ওই চত্বরে আশেপাশের একাধিক বহুতলের ছাদ থেকে ব্রিগেডের উপর কড়া নজরদারি চলবে এবং ব্রিগেডের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হবে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও মাঠজুড়ে তৈরি হচ্ছে একাধিক খাবারের স্টল। সেখানে ঝালমুড়ি, রসগোল্লা, সন্দেশ-সহ নানা বাঙালি খাবার রাখা হবে। আগামীকাল রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে সকাল থেকে মঞ্চে বাজবে রবীন্দ্র সংগীত। তবে এতসব আয়োজনের মাঝেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। বাড়ছে দুর্যোগের সংকেত।
দুর্যোগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দিন ধরেই ঘূর্ণাবর্তের কারণে রাজ্য জুড়ে ঝড় বৃষ্টি হয়েই চলছে। আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস আগামীকাল, শনিবারও সকালে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। হতে পারে কালবৈশাখী। তাই ঝড়বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ব্রিগেডে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম রাখা হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে অতিরিক্ত পাম্পের, যাতে ভারী বৃষ্টি হলে জল তাড়াতাড়ি নেমে যায়। আয়োজকদের দাবি, শনিবার অন্তত ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। এছাড়াও ব্রিগেডের চারপাশে তৈরি হচ্ছে মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার। যার মধ্যে পাঁচটি VVIP-দের জন্য। প্রতিটি গেটেই তুলে ধরা হবে বাংলার ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক।
আরও পড়ুন: মমতার অনড় সিদ্ধান্তে বিড়ম্বনায় রাজ্য! এখন কার হাতে বাংলা?
ব্রিগেডের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মোতায়েন করা হতে চলেছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকছেন একজন করে ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। সঙ্গে থাকবেন একাধিক ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর, ASI ও কয়েকজন কনস্টেবল। পুরো ব্রিগেডের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্তারা। এছাড়াও প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হতে পারে ব্রিগেডে।










