প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গতকাল বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি বলেছিলেন যে, “দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” আর তারপরেই শোরগোল শুরু হয় গোটা বিধানসভায়। এবার সেই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়রের গ্রেফতারির দাবি তুললেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
কী বলছেন কুণাল ঘোষ?
মদন মিত্রকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে বিবৃতি দিয়েছেন, তার সমর্থন করছি। তদন্তে যাঁদের নাম তিনি বলেছেন, যদি সত্যি তাঁরা জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। অবৈধ নির্মাণ প্ল্যান নিয়ে যে অভিযোগগুলি উঠছে, সেটা ঠিক কি না তো জানা নেই। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী যখন গুরুত্বের সঙ্গে বিধানসভায় যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাকে মানত্য দিয়েই বিবেচনা করব। সেক্ষেত্রে যদি, প্রাক্তন মেয়রের কোনও দায় থাকে তাহলেও তাঁকে গ্রেফতার করা হোক।” আর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তুমুল হইচই শুরু হয় রাজনৈতিক অন্দরে।
#WATCH | Kolkata, West Bengal | Under-construction warehouse collapse in Kolkata’s Taratala, TMC MLA Kunal Ghosh says, “We fully support the Chief Minister’s tough stand and statement. But if only four or five people are arrested, and all those in high positions are not arrested,… pic.twitter.com/NvSGm018Jd
— ANI (@ANI) June 26, 2026
উঠে এল কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ
মেয়র থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও বিধানসভার বক্তৃতায় অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তাঁর পুরো নাম উচ্চারণ না করেই মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেছিলেন যে, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান পাশ হয় না।’’ আর এই প্রসঙ্গে কুণালের দাবি, “কালীকে অপসারণের জন্য ক্যামাক স্ট্রিট উদ্যোগ নিয়েছিল । তাঁকে ক্যমাক স্ট্রিট সমর্থন করে না । এটা তথ্যে ভুল আছে। কালী শুনেছি কার্য নির্বাহী মেয়র। সবাই তেল দিয়ে চলত। ওর কান টানুন দেখবেন মাথা ঠিক বেরিয়ে আসবে।” যদিও তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায়, গতকাল কালীচরণকে আটক করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: হাতে মাত্র ৭ দিন সময়! সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসাগুলিকে আল্টিমেটাম বিকাশ ভবনের
উল্লেখ্য, তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনকে। তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করেছে পাঁচ জনকে। বিধানসভায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ ও আহতদের ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকেও এগিয়ে এসেছে সাহায্যের হাত। জানা গিয়েছে দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।










