সহেলি মিত্র, কলকাতা: টানা ১১ দিনের লড়াই শেষ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger) ‘সুন্দর’। সুন্দরবন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পুরুষ বাঘটি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালিতে অবস্থিত টাইগার রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে শনিবার ভোরে বাঘটি মারা যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ১৬ বছর।
মৃত্যু হল সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের
পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, সুন্দর গত ১২ দিন ধরে একটি গুরুতর সংক্রামক রোগে ভুগছিল। এরপর শনিবার সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটির বন বিভাগের একটি বিশেষ মেডিকেল টিমের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটিকে বাঁচানো যায়নি।
কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছিল এক বাঘিনীর
এই প্রসঙ্গে বড় তথ্য দিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগের অধিকর্তা নিশা গোস্বামী। তিনি জানান, ‘বাঘটি বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ হয়েছিল। দু’জন পশু চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছিলেন। তবে বাঁচানো গেল না।’ গত ১১ আগস্ট টাইগার রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের একমাত্র ১৩ বছর বয়সী বাঘিনীরও মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা করা সত্ত্বেও বাঘিনীটির উপর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অবশেষে চিকিৎসা চলাকালীনই সে মারা যায়। এর কয়েকদিন পরেই মারা গেল একমাত্র বাঘ ‘সুন্দর’।
আরও পড়ুনঃ ১০৫ বছর বয়সে জেলমুক্তি! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মকুব মালদার রসিকচন্দ্রের সাজা
মূলত এই দুটি বাঘই ছিল পার্কটির একমাত্র অবশিষ্ট। তাদের মৃত্যুর ফলে পার্কটির বাঘের খাঁচাটি এখন সম্পূর্ণ বাঘশূন্য হয়ে পড়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সুন্দরের মৃত্যুতে ঝাড়খালি বন্যপ্রাণী উদ্যান গভীরভাবে শোকাহত। সুন্দরের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে উদ্যানের কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে দুটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বন বিভাগ জানিয়েছে যে, নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরেই বাঘটির মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।










