বিড়লা তারামণ্ডলের তৃণমূলের মঞ্চে ভাঙচুর, রাতভর পাহারায় মমতা অভিষেক

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্যরকম ২১ জুলাই…দীর্ঘ ১৫ বছর পর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল (All India Trinamool Congress)। শুধু তাই নয় দলও দু’টি শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি শিবিরের নেতৃত্বে মমতার  অপরটি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমতাবস্থায় মমতার কালীঘাটের ডিভা নিয়ে শুরু হল চরম উত্তেজনা। সভার ঠিক আগের রাতে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের (Birla Planetarium) সামনে কালীঘাট তৃণমূলের তৈরি মূল সভামঞ্চ ভাঙচুর করার গুরুতর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। সারারাত মঞ্চ পাহারা দিলেন মমতা (Mamata Banerjee) অভিষেক।

রাতভর সভাস্থলে পাহারা দেন মমতা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অভিযোগ উঠে আসে যে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি মূল সভামঞ্চ ভেঙে দেওয়ার জন্য বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে এসে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাঙচুর করেছে। আর এই খবর পাওয়া মাত্রই মধ্যরাতেই বৃষ্টির জল পেরিয়ে সোজা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার সঙ্গে ছিলেন দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সভার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাতভর সেই সভামঞ্চে পাহারা দিয়েছিলেন সকলে।

আইনি হুঁশিয়ারি মমতার

মঞ্চ ভাঙার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দলের কর্মী-সমর্থকদের গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুর করছে বিজেপি। আর এই খবর পাওয়া মাত্রই ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “আমাদের ছেলেদের সভায় আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শহিদ পরিবারগুলিকে পুলিশ সভায় না আসার জন্য ভয় দেখাচ্ছে। এ ভাবে গায়ের জোরে সবকিছু করা যায় না। বিজেপির ৬০-৬৫ জনের গুন্ডাবাহিনী এসব করেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক জন ক্রিমিনাল।” এরপরই আইনি পথেই এর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারির সুরে মমতা জানান, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালাল তা নিয়ে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৫০% পেনশন বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্য সরকারের, অ্যাকাউন্টে কত ঢুকবে টাকা?

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ অনুমতি নিয়ে শেষমেশ বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর হাইকোর্টের সেই নির্দেশ মেনেই চটজলদি সেখানে তৈরি করা হয়েছিল সুবিশাল সভামঞ্চ। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এই নজিরবিহীন ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। যদিও সকালে দলের সকলকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আভ্যন্তরীণ বৈঠক করেছিলেন বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। পরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এদিকে সকাল থেকেই কর্মীরা আসতে শুরু করে দিয়েছেন।