“ভীতি প্রদর্শন, জঙ্গলরাজ” আইনজীবী শামিমের উপর হামলায় বিস্ফোরক মমতা

Published:

mamata samim

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) শালবনি থানা এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্য তথা আইনজীবী শামিম আহমেদের (Shamim Ahmed) উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শালবনিতে ঘরছাড়া মানুষদের আইনি সহায়তা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন শামিম-সহ কয়েকজন আইনজীবী। তাঁদের গাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষিপ্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কী বললেন আইনজীবী?

হামলার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শামিম জানান, এই ধরনের আক্রমণ তাঁকে থামাতে পারবেনা। তাঁর কথায়, গোটা ঘটনাকে তিনি শুধু একজন আইনজীবীর উপর হামলা হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি সংবিধান রক্ষার বৃহত্তর লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশে একদিকে সংবিধান রক্ষার পক্ষে থাকা মানুষ, অন্যদিকে সংবিধান ধ্বংসের পক্ষে থাকা শক্তি এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শামিমের বক্তব্য, রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন, তাঁদের আইনি সহায়তা করতেই তিনি শালবনি গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা আসলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের অধিকারকেই দুর্বল করার চেষ্টা। তবে হামলা বা ভয় দেখিয়ে সেই লড়াই থামানো যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আদালত এবং রাজপথ দুই জায়গাতেই সংবিধান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন শামিম।

এই প্রসঙ্গে কী বলছেন মমতা?

এই ঘটনার পরই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “শালবনি থানার কাছে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদ্য নির্বাচিত সদস্য আইনজীবী শামিম আহমেদের উপর যে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। শামিমকে তাঁর অভিযোগ পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানতে পেরেছি। কলকাতা হাই কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের পর তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।”

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই খুলছে দ্বিতীয় ফারাক্কা সেতু, কবে?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ব্যাঙ্কশাল কোর্ট এবং বারুইপুর কোর্টে আইনজীবীদের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গ কোনও অবস্থাতেই ভীতি প্রদর্শন কিংবা জঙ্গলরাজের সংস্কৃতি মেনে নেবে না। রাজনৈতিক হিংসার ঊর্ধ্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কোনও দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক আইনজীবীকে ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিতে হবে। বিজেপির দুষ্কৃতীদের দ্বারা আইনজীবীদের উপর বারবার এই ধরনের অত্যাচারের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

google button