৫০০০ টাকা বেতন বাড়লেও খুশি নন পার্শ্ব শিক্ষকরা, তুলছেন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Published:

West Bengal Budget 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেটে (West Bengal Budget 2026) পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ৫০০০ টাকা। তবে তাতে তাঁরা খুশি নন। শিক্ষকদের দাবি, এটুকু বেতন বৃদ্ধিতে বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়। সংকল্পপত্রের সঙ্গে কাজের মিল হচ্ছে না। কারণ, উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে পড়িয়ে তাঁরা মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতন পেতেন (হাতে আসত ১৪ হাজার টাকার কম), এবং প্রাথমিক স্কুলে সেই বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা (হাতে আসত ১০ হাজার টাকার সামান্য বেশি)। দীর্ঘ ২২ বছর কাজ করার প্রকৃত মূল্য তাঁরা এখনও পর্যন্ত পাননি বলেই দাবি।

বেতন বাড়ালেও খুশি নন পার্শ্ব শিক্ষকরা

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে তৎকালীন সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্পের আওতায় স্কুলে স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক স্কুল মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার পার্শ্ব শিক্ষক রয়েছে গোটা রাজ্যে। ক্ষমতার পালাবদল হতেই রাজ্যের নতুন সরকার তাঁদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে, এবং তা ৫০০০ টাকা। যার জেরে উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা এখন পাবেন প্রায় ১৯ হাজার টাকা এবং প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা পাবেন ১৫ হাজার টাকা। তাঁদের দাবি, চুক্তির ভিত্তিতেই ২২ বছর ধরে কাজ করছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ঠিকমতো সুযোগ সুবিধা পান না।

যদিও তৎকালীন সরকার প্রাথমিকভাবে তাদেরকে তিন বছর অন্তর ৫ শতাংশ করে বেতন বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই মতো শেষবার ২০১৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার ৫০০০ টাকা বেতন বাড়িয়েছিল। তারপর থেকেই বন্ধ বেতন বৃদ্ধির সেই প্রথা। দীর্ঘ ৮ বছর পর আজ আবারও একধাক্কায় ৫০০০ টাকা বেতন বাড়ল তাঁদের। এমনকি ২০১৯ সালে তাঁরা আন্দোলনেও নেমেছিলেন। যার কারণে ২০২০ সালে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি করে সরকার। তবে তাঁদের দাবি, বিজেপি সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে সমকাজে সমবেতনের দাবি পূরণ করা হবে। কিন্তু সেই দাবি পূরণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ফের হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান, তা সত্ত্বেও ৮.৬ লক্ষ টন তেল নিয়ে ফিরছে ৩ ভারতীয় জাহাজ

পার্শ্ব শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনও প্রয়াস দেখা গেল না। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের পার্শ্ব শিক্ষকরা ৩২ হাজার টাকা, হরিয়ানায় ৫২ হাজার টাকা করে বেতন পাচ্ছেন। সংকল্পপত্রে যা ঘোষণা করা হয়েছিল তা মিলল না। তাঁদের দাবি, যেটুকু বেতন বাড়ানো হয়েছে তাতে বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে টিকে থাকা। দুষ্কর মাত্র ১৫ হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব।” এক শিক্ষকের কথায়, “সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল মাসিক অন্তত ২০ হাজার টাকা বেতন করা হোক। তবে আমরা আশাবাদী, ধাপে ধাপে অবশ্যই বেতন বাড়ানো হবে।”