প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্কুল রয়েছে কিন্তু নেই পড়ুয়া, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই এমন অবস্থা পুরুলিয়ার (Purulia) মাতকুমডি এমএসকে- তে। এদিকে ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) দাখিল করতেই ক্ষোভ উগরে দেয় গ্রামের মানুষজন। অভিযোগ পড়ুয়া শূন্য থাকা সত্ত্বেও টিচার ইনচার্জ পঙ্কজ কুমার রেওয়ানি মিড ডে মিল দাখিল করেছেন। আর এই খবর কভার করতে গিয়েই সাংবাদিকদের সামনে ঘটল আজব এক ঘটনা।
পড়ুয়া শূন্য থাকা সত্ত্বেও মিড ডে মিলের আবেদন!
অভিযোগ, স্কুলে কোন ছাত্রছাত্রী না থাকার সত্ত্বেও ওই মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের টিচার ইনচার্জ পঙ্কজ কুমার রেওয়ানি ভুয়ো মিড ডে মিল দাখিল করেছেন। আর সেই খবর গ্রামের মানুষের কানে আসতেই তাঁরা পুরুলিয়া -১নম্বর ব্লকের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেন। শুধু তাই নয় এদিন সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করতেই রীতিমত পালিয়ে যান। ক্যামেরা দেখেই তিনি স্কুল থেকে ছুট লাগালেন এবং কয়েক পা যেতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেও উঠে দাঁড়িয়ে ফের ছুটতে থাকেন। যদিও পরে তিনি পুনরায় স্কুলে আসেন। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ইনচার্জ বলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি ছুটেছিলেন।
যুক্তিহীন কথা টিচার ইনচার্জের
কিন্তু অবাক করা বিষয় হল প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়েই তিনি ফিরেও এলেন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা অনাবশ্যক যুক্তিহীন কথা বলতে থাকেন। কোন দল মিড ডে মিল রান্না করতে বলেছিল তিনি সেটাও বলতে পারেনি। তাঁর দাবি, রান্না যেহেতু গ্যাস হয়, সেই সিলিন্ডার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। আমরা সবকিছুই প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কীভাবে শূন্য পড়ুয়া স্কুলে মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কয়েক বছরেই বেহাল বাংলার প্রথম প্লাস্টিকের নীল রাস্তা, পূর্ব বর্ধমানের সেই রোড এখন কঙ্কালসার
সূত্রের খবর, ২০০৬ সালে পুরুলিয়ায় মাতকুমডি গ্রামে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মাতকুমডি এমএসকে (মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র)। আর এই স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ওই এলাকার মানুষজন প্রায় এক একর জমি দান করেছিল। প্রথম দিকে প্রায় ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও এখন উপস্থিতির সংখ্যা শূন্য। তবে স্কুলে রয়েছেন মোট তিন জন শিক্ষক। তাঁরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আরও স্কুলের কোনো পড়ুয়া আসে না। জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে তিনটে বাথরুম, ২ টো নলকূপ, ৪টা ক্লাসরুম ও একটা এক্সট্রা ক্লাস রুম। কিন্তু একটা ঘর বাদে সব ঘর আজ বন্ধ।










