অনন্যা সরকার, কলকাতা: এবছর বর্ষার শুরুতে তেমন ইলিশের (Ilish) যোগান না থাকায় মুষড়ে পড়েছিলেন ইলিশ প্রেমীরা। তবে গত কয়েক সপ্তাহে আবহাওয়ার পরিবর্তন টন টন ইলিশ মৎসজীবীদের জালে ধরা পড়েছে, তাই বাঙালির হেঁশেল এখন ম-ম করছে রূপোলি শস্যের সুবাসে। ঝাল, ঝোল, ভাজা – নানা পদের ‘ মেইন ক্যারেক্টার’ এখন মাছের রাণী। কিছুদিন আগেই দিঘার মোহনায় প্রায় ২৫ টন ইলিশ উঠেছে। তবে জানেন দিঘা বা গঙ্গা নয়, এই বাংলায় রয়েছে এমন এক নদী, যার ইলিশের স্বাদ জগদ্বিখ্যাত। কোন নদী আসুন জেনে নিই।
বাংলার কোন নদীতে মেলে সবচেয়ে সেরা ইলিশ?
ইলিশ মূলত সমুদ্রের মাছ। এরা প্রজননের জন্য নদীতে আসে। আর এখানে আসলে তাদের জীবন অনেকটাই বদলে যায়। সমুদ্রের তুলনায় নদীতে ইলিশের উপযোগী খাবার বেশি মেলে। তাই খেয়েদেয়ে রীতিমত নাদুস-নুদুস হয়ে ওঠে মাছগুলি। নদীতে থাকা নানাবিধ খাদ্যে ইলিশের শরীর চর্বিতে ভরে ওঠে। তাই নদীর ইলিশই বেশি সুস্বাদু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু স্থানে ইলিশ মেলে, তবে সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশের ঠিকানা হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদী। এই নদীতে পাওয়া ইলিশগুলি সোজা চলে যায় কোলাঘাটের বাজারে। তাই মরশুমে এই বাজার থিকথিক করে ক্রেতাদের ভিড়ে। হয় মাছের নিলামও। চমৎকার সুবাস ও অতুলনীয় স্বাদ কোলাঘাটের ইলিশকে সারাবিশ্বে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: হুগলি নদীর পাড়েই পড়ে শয়ে শয়ে মরা ইলিশ, ভয়াবহ মাছের মড়ক গঙ্গায়
কোলাঘাটের ইলিশ তার স্বাদ ও গন্ধে দিঘার ইলিশকে মাত দেয় সহজেই। কারণ, দিঘার ইলিশগুলি সমুদ্রের মাছ, ফলে এরা নোনাজলে থাকে। তাই স্বাদেও নোনা হয়। খাদ্য কম থাকায় চর্বি ও তেলের পরিমাণ কম এই মাছের শরীরে। এদিকে, কোলাঘাটের ইলিশ মিষ্টি জলের মাছ, তাই স্বাদে অতুলনীয়। ছোটো ইলিশ মাছগুলি মূলত প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ প্লাঙ্কটন খায়। তবে বড় হলে এগুলি পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ প্লাঙ্কটনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। আর রূপনারায়ণ নদীতে শৈবালজাতীয় উদ্ভিজ্জ প্লাঙ্কটনের কোনো অভাব নেই। এই খেয়ে কোলাঘাটের ইলিশের স্বাদ বাড়ে বহুগুন। এছাড়া, রূপনারায়ণ নদীর স্রোত ও জোয়ার-ভাটা মাছগুলিকে সচল রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ইলিশের পেশির গঠন চমৎকার হয় এবং চর্বির ভারসাম্যও বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: উঁচু পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে জলধারা, বর্ষায় ঘুরে আসুন ‘ওড়িশার মিনি থাইল্যান্ড’ থেকে
কীভাবে আলাদা করবেন দিঘা ও কোলাঘাটের ইলিশকে?
কোলাঘাট ও দিঘার ইলিশ চেনার সহজ উপায় হল এর গঠন পরীক্ষা করা। দিঘায় যেসব মাছ ওঠে সেগুলি সাধারণত কিছুটা সরু ও লম্বাটে ধরনের হয়। টাটকা থাকাকালীন এগুলোর গায়ে উজ্জ্বল রূপোলি আভা দেখা যায় এবং আকারে সাধারণত এগুলো মাঝারি থেকে বড় মাপের হয়। অন্যদিকে, রূপনারায়ণের ইলিশ আকারে কিছুটা ছোট ও গোলগাল হয়। এগুলির গায়ের রুপোলি আভা আরও বেশি স্পষ্ট হয়। রূপনারায়ণ ইলিশের পিঠের দিকের অংশটি বেশ গাঢ় রঙের ও পুরু হয়। নদীর জল ঘোলা থাকলে পিঠের এই কালচে ভাব কিছুটা কমে যায়, কিন্তু জল পরিষ্কার থাকলে তা গাঢ় হয়ে ওঠে। এই বৈশিষ্ট্য গুলি দেখ কোলাঘাটে ইলিশকে চিনে নেওয়া যায়।










