সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে চলমান বিতর্ক নিয়ে নয়া মোড়। ১২ আগস্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের উপর এবার নোটিশ জারি করল সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে জানিয়েছে যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ আবেদনের চূড়ান্ত ফলাফলের উপর নির্ভর করেই হবে। এমনকি নবনিযুক্ত প্রার্থীদের দেওয়া নিয়োগপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।
ওবিসি মামলা নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহজাহান ফারসাদ এদিন আদালতে সওয়াল করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকেন অ্যাডভোকেট জেনারেল তুষার মেহতা। তবে শুনানির সময় অন্তর্বর্তীকালীন পদগুলি খালি রাখার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই দাবির মান্যতা না দিয়ে জানিয়েছে, রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। এরপর আবেদনকারীরা অনুরোধ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আবেদনের চূড়ান্ত ফলাফলের সাপেক্ষে নিয়োগগুলি যেন কার্যকর হয়। সেই সূত্রে আদালত অনুরোধ গ্রহণ করে নিয়োগপত্রে বিষয়টি উল্লেখ করার নির্দেশ দেয়।
জানিয়ে রাখি, হাইকোর্ট ২০২৫ সালের মে এবং জুন মাসে রাজ্য সরকারের ওবিসি ক্যাটাগরির তালিকা শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ৮ মে থেকে ১২ জুন এবং ২০২৫ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৬ সালের ১৮ মে-র মধ্যে ইস্যু করা প্রাসঙ্গিক ওবিসি সার্টিফিকেটগুলির কোনও আইনি কার্যকরিতা থাকবে না। এমনকি ২০১০ সালের আগে ইস্যু হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তিদের পুনরায় আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ৩১৬১ কোটি বরাদ্দ, ৩.২৭ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঋণ মকুবের টাকা দিচ্ছে সরকার
যদিও আগের সরকার পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মে-জুন মাসে কয়েকটি ওবিসি বিভাগকে পুনরায় তালিকাভুক্ত করে এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আপিল প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি ২০২৬ এর জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজ্যকে তাদের আপিল প্রত্যাহার করার অনুমতিও দেয়। তবে পুলিশে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আবেদনকারী জানিয়েছিলেন, মোট ১১,৭৪৯টি পুলিশ নিয়োগ পদের মধ্যে ১৯৯৮টি পদ ওবিসি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, যা মাত্র ১৭% সংরক্ষণ। তবে আপাতত আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে, বিচারাধীন আবেদনের চূড়ান্ত ফলাফলের সাপেক্ষেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।










