কলকাতায় পুলিশ-সাংবাদিকদের উপর হামলায় গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা, চিহ্নিত ৭০ জন

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লির পাশাপাশি উত্তাল কলকাতা। গতকাল, ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কলকাতার ধর্মতলায় হওয়া বিক্ষোভ (CJP Protest In Kolkata) ঘিরে ব্যাপক শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। এমতাবস্থায় আন্দোলনের নামে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং হেয়ার স্ট্রিট থানা ও এন্টালিতে মোট ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে।

গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে অভিযুক্তদের

গতকাল, NEET-কাণ্ডের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যেই ভয়ংকর টুপ ধারণ করেছিল। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল জুতো, ইট থেকে জলের বোতল। বাদ যায়নি সাংবাদিকরা। ঘটনার খবর কভার করতে গিয়ে রীতিমত বিক্ষোভকারীদের হাতে মার খেতে হয়েছিল। গোটা বিষয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি। আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যেহেতু ভারত গণতান্ত্রিক দেশ, যে কেউ তাঁর মতপ্রকাশ করতে পারে। তাই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না। মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল, পুলিশের হিসাব ছিল ৯ হাজারের মতো লোক হবে। কিন্তু কিছু বাম ও SUCI-এর ছাত্র সংগঠন, যাদের কলেজে অস্তিত্ব নেই, তারাও আন্দোলনে ঢুকে পড়ে। ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসার পর জুতো ও বোতল দিয়ে আক্রমণ শুরু করে তাঁদের উপর। মুহূর্তের মধ্যে বিশৃঙ্খোলামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ সংযত ছিল। তাই এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়াব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: সেবাশ্রয় থেকে আমফান ত্রাণ, আজ বিধানসভায় অভিষেকের দুর্নীতির রিপোর্ট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

ধর্মতলার এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এবার গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করা হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, “হেয়ার স্ট্রিট থানা ও এন্টালিতে ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, মোমিনপুরের তনভির ইকবাল চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের কেউই ছাত্র নয়। এমন ব্যবস্থা নেব যাতে গুন্ডাদের এক পুরুষ নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে ঘটনা ঘটনোর আগে। এই আইনের প্রয়োজন কতটা এবার মানুষ দেখবে।” ধর্মতলার এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন দেখার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।