মন্দারমণিতে গোয়ার ছোঁয়া, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের নতুন লোগো-স্লোগান উন্মোচন মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ব্যবস্থায় পর পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকারের নজর পড়ল পর্যটন ব্যবস্থায় (West Bengal Tourism)। পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নতুন মাত্রায় তুলে ধরতে এবার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নতুন স্লোগানের মাধ্যমে রাজ্য পর্যটন দফতরের নতুন লোগো (West Bengal Tourism Logo) এবং ব্র্যান্ডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি ওয়াটার মেট্রো থেকে মন্দারমণি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন তিনি।

নতুন লোগো এবং স্লোগান উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়াম থেকে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু নতুন লোগো নয় এর পাশাপাশি সামনে এসেছে নতুন স্লোগান- ‘দেখব নতুন রূপে, দেখব নতুন চোখে’। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীসহ রাজ্য প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। প্রশাসনের লক্ষ্য এই নতুন পরিচয়ের মাধ্যমে বাংলার পর্যটনকে আরও নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে পর্যটন খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাকে এতদিন সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। রাজ্যের প্রাণীসম্পদসহ পর্যটনের সম্ভাবনাগুলি সম্পূর্ণ নষ্ট করা হয়েছে। আমাদের রাজ্যের ওপর দিয়েই পর্যটকরা সিকিম চলে যান। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই আমরা এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের হারানো পর্যটনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছি। খুব শীঘ্রই এবার সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা রাজ্য সরকারের সমস্ত ট্যুরিস্ট গেস্ট হাউসগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণ করা হবে। এছাড়াও ঐতিহাসিক মন্দারমণি সৈকতকে গোয়ার আদলে আন্তর্জাতিক মানে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

আরও পড়ুন: KYC করাতে গিয়ে ব্রেন স্ট্রোক, আয়ুষ্মান কার্ডে বাঁচল পশ্চিম মেদিনীপুরের যুবকের প্রাণ

২০ লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হবে

সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনা হল গঙ্গাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে কলকাতায় চালু হতে চলেছে ‘ওয়াটার মেট্রো’। জানিয়ে রাখি দেশের ১৭তম শহর হিসেবে কলকাতা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এবং নদী বক্ষে পর্যটকদের ঘোরার সুবিধার্থে নতুন আধুনিক বোট আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ” এছাড়াও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে চলতি বছর ২০ লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করে ‘ডেস্টিনেশন সুন্দরবন’ গড়ে তোলা হবে। এবং আগামী ২ অক্টোবর বন দফতরের পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

কী বলছেন শঙ্কর ঘোষ?

জানা গিয়েছে, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও মাথায় রেখে পর্যটন দফতর সরস্বতী পুজো, দোল, বুদ্ধ পূর্ণিমা, পয়লা বৈশাখ, জামাইষষ্ঠী, রথযাত্রা, রাখি পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপুজোর অষ্টমী, কালীপুজো, ভাইফোঁটা, পৌষ সংক্রান্তি এই বিশেষ ১২টি নির্দিষ্ট দিন চিহ্নিত করেছে, এই দিনগুলিতে দফতরের সমস্ত কর্মী ও আধিকারিকেরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, “‘Born to lead, ready to rise’ ভাবনাকে সামনে রেখে গত তিন মাস ধরে বাংলার পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কাজ চলছে। আশা রাখছি আমরা সফল হব।”