“ধমক-চমক অতীত, বাংলায় বারবার আসুন”, তসলিমার সুরক্ষার দায়িত্ব নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতায় ফিরেছেন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আর আজ অর্থাৎ শনিবার রবীন্দ্রসদনে লেখিকাকে অভ্যর্থনা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমনকি তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধমকের সংস্কৃতি এখন অতীত। সুরক্ষিত বাংলায় বারবার ফিরে আসুন।”

তসলিমাকে অভ্যর্থনা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী

আসলে ২০০৭ সালে তসলিমার আত্মজীবনী ‘দ্বিখন্ডিত’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় কলকাতা। শহরের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামতে হয়। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নির্দেশে তসলিমার ওই বইটিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে লেখিকাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল হলেও মমতার আমলেও সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে। তবে এবার রাজ্যে সরকারের পালাবদল ঘটেছে ফের। রাম রাজত্বে শেষমেশ কলকাতায় ফিরতে পারলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক।

এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আপনি একজন প্রখ্যাত লেখিকা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনার লেখা পড়েন। আপনার অনুরাগীর সংখ্যা বিপুল। আপনি পশ্চিমবঙ্গে আনন্দের সঙ্গেই আপনার বক্তব্য রাখুন। নতুন বাংলা নিশ্চিতভাবেই আগের অভিজ্ঞতার থেকে আলাদা। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণিত হল যে নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার রাজ্য সংবিধান থেকে শুরু করে বাক স্বাধীনতা গণতন্ত্র, সবকিছুই সুরক্ষিত। ধমক চমক, দেখে নেব, আটকে দেব, এই সমস্ত সংস্কৃতি এখন অতীত। বাংলা এখন শৃঙ্খলমুক্ত। এখানে সবারই আসার অধিকার রয়েছে। সবারই নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে।”

আরও পড়ুন: “তোলাবাজি সব জায়গায় বন্ধ করতে পারিনি” বললেন শমীক ভট্টাচার্য

মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আপনি যখন চাইবেন তখনই বাংলায় আসতে পারবেন। সম্পূর্ণ সুরক্ষার দায়িত্ব আমার। এই সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে।” উল্লেখ্য আজ কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি এবং বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষের বিশেষ স্মারক লেখিকার হাতে তুলে দিয়েই বিশেষভাবে অভ্যর্থনা জানান।