পুজোর নতুন জামা! বীরভূমের গ্রামে ‘২ টাকার হাট’ বসিয়ে দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটালেন শিক্ষক

Published:

2 Rupees Clothes

অনন্যা সরকার, বীরভূম: আর মাত্র কটা দিনের অপেক্ষা, ঢাকে কাঠি পড়লো বলে। আগামী মাসেই দুর্গোৎসব। শারদীয়ার এই পূণ্যলগ্নে আবালবৃদ্ধনিতা মেতে ওঠেন মায়ের আবাহনে। তার সাথে ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, প্যান্ডেল হপিং – কী নেই। কিন্তু পুজোর সময় কিছু মানুষের মুখে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। নতুন জামাকাপড় পরে বাবা-মায়ের হাত ধরে একটি ছোট্ট শিশু যখন ঠাকুর দেখতে প্যান্ডেলে ঢুকবে, তখন হয়তো দূর থেকে তাকে দেখে চোখের কোণায় জল জমবে আরেক শিশুর। এই বৈষম্যের সমাজে সবার জন্য পুজোটা একরকম নয়। তবে এবার এরকমই কিছু শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বীরভূমের এক শিক্ষকের উদ্যোগে জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে আয়োজিত হল এক বিশেষ বাজার, যেখানে পোশাক পাওয়া যায় মাত্র ২ টাকায় (2 Rupees Clothes)। যাদের কাছে পুজোর সময় একটা নতুন পোশাক পাওয়া ‘হাতে চাঁদ পাওয়ার সমান’, তাদের হাতে ২ টাকায় পৌঁছে গেছে পোশাক। বেজায় খুশি গ্রামের বাচ্চারা। 

২ টাকায় জামা পেয়ে হাসি ফুটেছে শিশুদের মুখে

বোলপুর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পারুই ব্লকের আমোদপুর হল একটি প্রত্যন্ত সাঁওতাল গ্রাম। এখানকার বাসিন্দারা শহরের উৎসবের জাঁকজমক থেকে বহু দূরে বাস করে। দুর্গাপুজোর আনন্দ-উল্লাস বা নতুন পোশাকের বিলাসিতা – কোনও কিছুই জীবনকে স্পর্শ করতে পারেনি। তবে, এইবছরের পুজোটা একটু অন্যরকম করতে, সবার মুখে হাসি ফোটাতে পুজোর মাসখানেক আগেই বীরভূমের বুদ্ধিশ্বর মণ্ডল করলেন এক বিশেষ আয়োজন। পেশায় মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক হলেও, সমাজসেবার প্রতি বুদ্ধিশ্বর বাবুর গভীর অনুরাগ রয়েছে। তাঁর উদ্যোগেই আজ জেলার শত শত শিশু পরার জন্য নতুন পোশাক পেয়েছে।

নিমডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ‘দুই টাকার হাটের’- এর আয়োজন করা হয় বুদ্ধিশ্বর মণ্ডলের উদ্যোগে। শুধু তাই নয়, প্রতি কেনাকাটায় দশ টাকা দামের এক প্যাকেট ডিটারজেন্টও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রাম ভিড় জমায় স্কুল চত্বরে। মাত্র দুই টাকায় গাছে দড়ি বেঁধে ঝোলানো রঙ বেরঙের পোশাকে দিকে এগিয়ে যায় হাত। 

আরও পড়ুন: বাংলার স্কুল পড়ুয়াদের জন্য ‘ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’, ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু কাজ

খুদেরা চরম উৎসাহে যে যতগুলো পারে ততগুলো জামা কাঁধে বোঝাই করে, আবার কেউ কেউ সেগুলো মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ভালো করে বেঁধে নেয়। ছোট্ট ছোট্ট মুখে ফোকলা দাঁতের হাসি দেখে মন ভরে যায় বুদ্ধিশ্বর মণ্ডলের। তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরেই তিনি এই দু’টাকার হাটের আয়োজন করছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের গরীব, দুঃস্থ মানুষ এই ব্যবহৃত কাপড়ের বাজারে অংশগ্রহণ করেন। পোশাকের সাথে প্রত্যেক শিশুকে একটি ডায়েরিও উপহার দেওয়া হয়েছে বলেন জানান তিনি। পুজোর আগে এই উদ্যোগে বেজায় খুশি গোটা গ্রাম।

আরও Birbhum Teacher