বিধানসভায় পেশ হল ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া বিল, কী কী বদল এল?

Published:

OBC Bill

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ অর্থাৎ সোমবার রাজ্যের বিধানসভায় পেশ করা হল ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া বিল (OBC Bill)। এই বিল পেশ করলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। একদিকে রাজ্যের ওবিসি সম্প্রদায়ের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বদল, আবার অন্যদিকে অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ এই বিল পেশ করা হল। বিগত সরকারের আমলে ২০১২ সালের আইন সংশোধনের লক্ষ্যেই এই বিল। পাশাপাশি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস বিল’ পেশ হল আজ রাজ্যের বিধানসভায়।

কী এই পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণী কমিশন বিল ২০২৬?

আসলে তৃণমূলের জমানায় ২০১২ সালে ওবিসি সংক্রান্ত আইন চালু করা হয়েছিল। তা সংশোধন করার জন্যই আজ এই বিল পেশ করা হল। অন্যদিকে দ্বিতীয় যে বিলটি পেশ করা হয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য হল, বাম আমলে ১৯৯৩ সালের আইন সংশোধন করে অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের কার্যকারিতা স্পষ্ট করা। এবার নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই বিলের আওতায় ঠিক কী কী পরিবর্তন আনা হবে?

কী থাকছে নতুন বিলে?

নতুন এই বিলের প্রধান বিষয়গুলি হল—

১) বর্তমানে আইন সদস্য সচিব হিসেবে সেক্রেটারি পদমর্যাদার অধিকারের কথা উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু নতুন বিলে তা বদল করে জয়েন্ট সেক্রেটারি বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

২) রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী চাকরি এবং শূন্যপদ সংরক্ষণের সংশোধনী বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগে ওবিসি সংরক্ষণের জন্য ক্যাটাগরি ১-এ মোট ৬৫টি জনজাতি এবং ক্যাটাগরি ২-এ মোট ৭৮টি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু নতুন বিলে ক্যাটাগরি ১ বাদ দেওয়া হয়েছে।

৩) এবার থেকে কোনও শ্রেণীকে অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন কমিশন নিজেই পরীক্ষা করবে। কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকেই পরামর্শ দেবে। এমনকি অনগ্রসর শ্রেণী তালিকায় অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সংক্রান্ত নাগরিকদের অভিযোগ কমিশন শুনবে।

আরও পড়ুন: বিজেপি সরকার আসতেই মুখে হাসি ৩ হাজার শ্রমিকের, ৭ মাস পর খুলছে কাঁকিনাড়া জুটমিল

৪) অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের কার্যকরী ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য এই বিল পেশ করা হল। সেক্ষেত্রে কমিশনের কাজের পরিধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫) এমনকি নতুন বিল অনুযায়ী, কমিশনের দেওয়া পরামর্শ কিংবা সুপারিশ রাজ্য সরকারের কাছে বাধ্যতামূলক বলে গণ্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে।