বাংলার স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য নিষিদ্ধ হল মোবাইল, কড়া নির্দেশিকা পর্ষদের

Published:

WBBSE

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখন স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে ফোন (Mobile Phone Use In School) নিয়ে কেরামতি দেখানোর দিন শেষ, কারণ এবার শিক্ষা সংস্কৃতির পরিবেশ সঠিক রাখতে স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। স্পষ্ট নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ক্লাসরুমের ভিতরে শিক্ষার্থী বা পড়ুয়া মোবাইল ফোন (Mobile Phone) সঙ্গে রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই সেই বিজ্ঞপ্তি রাজ্যের সমস্ত জেলার বিদ্যালয়গুলিতে পাঠানো হয়েছে এবং অবিলম্বে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

মোবাইলের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে পড়ুয়াদের

বর্তমান সময়ে বাচ্চারা মোবাইল ফোনের নেশায় এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছে যে বহু পড়ুয়ারাই এখন স্কুলে স্মার্টফোন নিয়ে আসে। শুধু তাই নয় ক্লাস চলাকালীন কিংবা অফ পিরিয়ডে স্কুলের ভেতরে ভিডিও বা ‘রিল’ তৈরি করে। যা দিনের পর দিন স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ এক্কেবারে নষ্ট করে দিচ্ছে। এককথায় ক্লাসরুমে ফোনের উপস্থিতি পড়ুয়াদের পাঠদানে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। তাই এবার সরকার এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করল পর্ষদ।

বিজ্ঞপ্তি জারি করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

পর্ষদের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধু স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নয়, ক্লাসরুমেও ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না পড়ুয়ারা। শীঘ্রই জেলা পরিদর্শকদের অধীনস্থ জেলার সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে। এর আগে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও মোবাইল ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তখনও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, প্রার্থনা সভা, ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি বা কোনও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাঝে ছাত্রছাত্রীরা মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারবে না। এবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদও একই ধরনের পদক্ষেপ নিল।

আরও পড়ুন: মিলবে অতিরিক্ত টাকা, আবাস নিয়ে সুখবর শোনাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

প্রসঙ্গত, নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী অপ্রয়োজনে স্কুলে ফোন নিয়ে আসে। আগের সময় কোনও পড়ুয়া স্কুলের মধ্যে মোবাইল ফোন-সহ ধরা পড়লে শিক্ষকদের থেকে মিলত উপযুক্ত শাস্তি বা অভিভাবকদের ডাকা হত স্কুলে। কিন্তু এখন সব নিয়ম শিথিল হয়ে গিয়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করে ধরে রাখতে কড়া পদক্ষেপ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এখন দেখার সেই নির্দেশ কার্যকর করতে কতটা সক্ষম হয় জেলার স্কুলগুলো।