অনন্যা সরকার, কলকাতা: জল্পনা শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের (West Bengal Madrasah Service Commission) বিলুপ্তির ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার। এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছেন যে, মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আর কোনও পৃথক কমিশন থাকবে না। সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) অধীনেই আনা হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের
রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিলুপ্তি ঘটিয়েছেন, যার ফলে স্থায়ীভাবে এই কমিশনের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের অবসান হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত স্বীকৃত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর নির্বাচন এবং নিয়োগের দায়িত্ব শুধুমাত্র স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওপরই বর্তাবে। রাজ্যের অন্যান্য মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য যে প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক মান বজায় রাখা হয়, তা এখন থেকে মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। চাকরিপ্রার্থীদের অবশ্যই স্ট্যান্ডার্ড এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করা এবং সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি পৃথক নিয়োগকারী সংস্থা রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। ফলস্বরূপ, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: “তিনবার হেরে এবার লজ্জায় ভোটে দাঁড়ায়নি” সেলিমকে চরম কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এবং অন্যান্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতে, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি শুধু একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে না, তার সাথে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।










