৫৮-র পরিবর্তে এবার জমির ৬টি শ্রেণি, জনগণের সুবিধার্থে বড় পদক্ষেপ রাজ্যে সরকারের

Published:

Land Classification of West Bengal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার ভূমি শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বর্তমানে বিদ্যমান ৫৮টি ভূমি বিভাগকে একত্রিত করে ৬টি বৃহত্তর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Land Classification)। আশা করা হচ্ছে যে, এর ফলে ভূমির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি বুঝতে সুবিধা হবে। প্রশাসনিক মহলও আশা করছে যে, এর মাধ্যমে অনলাইনে জমি-সংক্রান্ত লেনদেন ও পদ্ধতিগুলো আরও সহজ হয়ে উঠবে।

৫৮ বদলে রাজ্যে জমির হবে ৬টি বিভাগ

রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর তাঁদের সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, জমির ‘পরচা’ দলিলে উল্লিখিত বিদ্যমান শ্রেণিবিভাগগুলোকে জমির ব্যবহারের ভিত্তিতে নতুন করে বৃহত্তর কয়েকটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজ্যের কম্পিউটার-ভিত্তিক ভূমি ডেটাবেস এবং ‘ই-ভূচিত্র’ (E-Bhuchitra) ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, জমিকে মোট ছয়টি বৃহত্তর শ্রেণিতে ভাগ করা হবে, এগুলি হল – শিল্প (Industrial), প্রাতিষ্ঠানিক (Institutional), কৃষি (Agricultural), আবাসিক (Residential), জনসেবামূলক (Public Utility) এবং জলাশয় (Water Body)। শিল্প ইউনিট, উৎপাদন কেন্দ্র, চালকল, বরফ কারখানা, পাথর ভাঙার কারখানা এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের মতো স্থাপনাগুলি ‘শিল্প’ বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। 

আরও পড়ুন: ৬ মাসের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন রোজভ্যালির আমানতকারীরা, নতুন ওয়েবসাইট চালু কমিটির

আবার, হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, স্কুল, কলেজ, থানা, ডাকঘর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেলওয়ে স্টেশন এবং দমকল কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ বা ‘ইনস্টিটিউশনাল’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, আউশ, আমন, শালি, শুনা, ডাঙা, ধান জমি, সয়ম, দুয়ম, বাগান, চাষযোগ্য জমি এবং জলকরের মতো প্রচলিত শ্রেণিগুলি সবই ‘কৃষি’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যদিকে, বাড়ি, ঘর, বাস্তুভিটা, হোটেল, টাউনশিপ, আবাসন কমপ্লেক্সগুলি ‘আবাসিক’ বা ‘রেসিডেন্সিয়াল’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। 

এর পাশাপাশি, রাস্তাঘাট, সেতু, নলকূপ, বাস স্ট্যান্ড, খেলার মাঠ, আবর্জনা ফেলার স্থান, শ্মশান, কবরস্থানগুলোকে ‘জনসেবামূলক’ বা ‘পাবলিক ইউটিলিটি’ শ্রেণির মধ্যে পড়বে। আর দিঘি, পুকুর, ঝিল, বিল, খাল, ডোবা, ঝোরা, জলাভূমি, জলাশয়, নর্দমা এবং নিয়ানজুলিগুলোকে ‘জলাশয়’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: পেশায় নার্স, পাশে দাঁড়াত প্রতিবেশীদের অসুস্থতায়! চোরবাগানে পদপিষ্টে নিহত বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণা

পশ্চিমবঙ্গের ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে,  জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথা সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকরা প্রয়োজনে বর্তমান ভূমির শ্রেণিবিভাগ, নতুন বৃহত্তর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারবেন। এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। 

প্রসঙ্গত, প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার ফলে ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্র খুঁজে পাওয়া ও সেগুলো সংরক্ষণ করা অনেক সহজ হবে। দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এধরনের প্রস্তাব রাজ্যের কাছে আসছিল।  তবে বিভিন্ন কারণে এই পরিবর্তনটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পূর্বতন সরকার। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর, রাজ্য সরকার এই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

google button