অনন্যা সরকার, নদিয়া: ছোট্ট বীজ থেকেই অঙ্কুরিত হয় সাফল্যের চারা। আর সেই চারা গাছই একদিন যত্ন ও লালনপালনে মহীরুহে পরিণত হয়। তার জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ধৈর্যের। যেমনটা করে দেখিয়েছেন নদিয়া জেলার কল্যাণীর নয়ন মজুমদার (Success Story of Nayan Majumdar)। তিনি মাশরুম চাষ এবং উন্নত মানের স্পন (বীজ) উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আশীর্বাদ মাশরুম অ্যান্ড স্পন ল্যাবরেটরি’ শুধু স্থানীয় কৃষকদের জন্যই নয়, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও আসামের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির চাষীদের জন্যও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও পরীক্ষাগার-ভিত্তিক উৎপাদনের কারণে এল সাফল্যে
কল্যাণীর তালতলা এলাকায় অবস্থিত নয়ন মজুমদারের পরীক্ষাগারে, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ‘মাদার কালচার’ থেকে উন্নত মানের স্পন উৎপাদন করা হয়। কোয়ালিটি কন্ট্রোলের জন্য কৃষকদের কাছে সরবরাহ করার আগে প্রতিটি ব্যাচ খামার পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে ফলনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি প্রধানত ওয়েস্টার মাশরুম, মিল্কি মাশরুম, প্যাডি স্ট্র এবং ঔষধি মাশরুমের জন্য স্পন তৈরি করেন। এই প্রজাতির মাশরুমগুলি সারা বছর চাষের জন্য উপযুক্ত।
তবে, নয়ন মজুমদারের কাজ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যেই থেমে নেই তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, গ্রামের বেকার যুবক এবং সাধারণ মানুষকে নামমাত্র বা প্রায় বিনামূল্যে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গেদেতে অবস্থিত বিএসএফ (৩২তম ব্যাটালিয়ন) ক্যাম্পে গিয়ে সৈন্যদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যা দেশপ্রেম ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আরও পড়ুন: দিনে তিনবার রূপ বদলান মা! জানুন উত্তরাখণ্ডের প্রসিদ্ধ ধারি দেবীর মন্দিরের রহস্য
নয়ন মজুমদার তাঁর সম্পূর্ণ পরিপক্ক ‘জি-১’ গ্রেডের (First Generation) স্পন অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে চাষীদের কাছে বিক্রি করেন। এর প্রতি কেজির দাম মাত্র ৮৫ থেকে ১০০ টাকা, যা তাঁকে কৃষকদের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। সম্প্রতি টেলিভিশনের একটি কৃষি-বিষয়ক অনুষ্ঠানে নয়নবাবুর এই সামাজিক উদ্যোগ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলি প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা, গুণমান নিয়ে কোনো আপস না করা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা। তাঁর এই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, উন্নত প্রযুক্তি ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ শুধু যে আর্থিক দিক থেকে লাভজনক হয় তা-ই নয়, এটি হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও আত্মনির্ভরশীলতার উৎসও হয়ে উঠতে পারে।










