কলাইকুণ্ডার আকাশে ৬ পাকিস্তানি বিমানের সামনে রুখে দাঁড়ান একা, চেনেন এই IAF পাইলটকে?

Published:

Air Force Pilot Alfred Tyrone Cooke

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুন্ডা বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরোন কুক (Air Force Pilot Alfred Tyrone Cooke) এবং তাঁর সহ-পাইলট ফ্লাইং অফিসার সুবোধ চন্দ্র মামগাইন আকাশে টহল দিচ্ছিলেন। শত্রুর তুলনায় সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও, কুক সাহসিকতার সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমানের সাথে মোকাবিলা করতে এগিয়ে যান। কলাইকুন্ডার আকাশে তাঁর সেই লড়াই অদম্য সাহস, দক্ষতা এবং দেশের প্রতি নিষ্ঠার এক স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। সদ্য প্রয়াত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুক কীভাবে সেদিন হামলার মোকাবিলা করেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

ছয়টি ‘সেবার’ বিমানের মোকাবিলা

১৯৬৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের ছয়টি ‘সেবার’ (Sabre) যুদ্ধবিমান কলাইকুন্ডা বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই কুক এবং মামগাইন শত্রুকে প্রতিহত করতে তাঁদের ‘হকার হান্টার’ যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশ পথে পাড়ি দেন। শত্রুপক্ষের তুলনায় সংখ্যায় অনেক পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও, কুক কোনো ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি।

এরপর শুরু হয় তীব্র আকাশযুদ্ধ। কুক কৌশলী বিমান চালনার মাধ্যমে শত্রুর বিমানগুলোকে পরাস্ত করেন এবং সফলভাবে একটি ‘সেবার’ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু বানান, যার ফলে সেটি মাঝ-আকাশেই বিধ্বস্ত হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এরপর তিনি আরেকটি শত্রু বিমানের পেছনে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসেন। কিন্তু তখনই বুঝতে পারেন যে, তাঁর বিমানের গোলা-বারুদ ফুরিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: বাবা মুদির দোকানি, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে চতুর্থ প্রচেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে IAS মেয়ে

গোলা-বারুদ না থাকা সত্ত্বেও কুক পিছু হটেননি, তিনি শত্রু বিমানগুলোর ওপর চাপ বজায় রেখে তাদের ধাওয়া করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত, আক্রমণকারী বিমানগুলো ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এই অভিযানে অসামান্য সাহস, নেতৃত্ব এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠার জন্য কুককে ভারত সরকারের তরফে ‘বীর চক্র’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরোন কুক। অবসরের পর থেকেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন। তাঁর জীবন ও দুঃসাহসিক লড়াই আমাদের শেখায় যে, বিপদমুক্ত অবস্থায় নয়, বিপদের মুখেও নিজের কর্তব্য পালন করে যাওয়াই হল প্রকৃত সাহস।

google button