আজই চালু হচ্ছে ভারতের প্রথম LNG ট্রেন, রইল রুট ও বিশেষত্ব

Published:

LNG Train

সহেলি মিত্র, কলকাতা; সকল অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আজ রবিবার চালু হবে দেশের প্রথম এলএনজি (LNG Train) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত ট্রেনটি। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে একদম অভিনব ট্রেনের পথচলা শুরু হবে বলে খবর। জানা গিয়েছে, ট্রেন পরিচালনাকে সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে ভারতীয় রেলের প্রচেষ্টায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চালু হবে দেশের প্রথম LNG ট্রেন

পশ্চিম রেলের তরফে এই ট্রেনের ঝলক ও ট্রেনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভারতের প্রথম এলএনজি চালিত ট্রেনটি সম্পূর্ণরূপে যাত্রার জন্য প্রস্তুত। ভারতের রেলওয়েতে সবুজ ও শক্তি-দক্ষ পরিবহনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, দেশের প্রথম এলএনজি চালিত ট্রেনটি সজ্জিত এবং পরিচালনার জন্য প্রস্তুত।’ এই ট্রেনকে সবুজ রেলের (Green Rail) ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছে পশ্চিম রেলওয়ে।

কোন রুটে চলবে?

এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন, এরকম অভিনব ট্রেনটি কোন রুটে চলবে? জানা গিয়েছে, ভারতীয় রেল সবরমতি স্টেশন থেকে দেশের প্রথম এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল ট্রেনটি সফলভাবে চালু করতে চলেছে। এর ইঞ্জিন এলএনজি এবং ডিজেল উভয় জ্বালানিতেই চলে, যার ফলে বছরে জ্বালানি খরচ বাবদ আনুমানিক ২৩.৯ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দূষণ কমানো এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও আরও কার্যকর পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে।

আরও পড়ুনঃ জমিকে বাস্তুতে রূপান্তর করার দুর্দান্ত সুযোগ, স্বীকৃতি দেবে নবান্ন, কীভাবে?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আজ সবরমতি রেল স্টেশন থেকে এই বিশেষ ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন। এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা। এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের অধীনে, রেলওয়ে ১৪০০ হর্সপাওয়ারের দুটি ইঞ্জিনকে এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল সিস্টেমে রূপান্তরিত করেছে। যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবাটি চালু করার আগে, এই রূপান্তরিত ইঞ্জিনগুলিকে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলিতে, প্রযুক্তিটি নিরাপদ, কার্যকর এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই ডুয়াল-ফুয়েল সিস্টেমটি প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিনকে সহজেই ডিজেল থেকে এলএনজি বা এলএনজি থেকে ডিজেলে স্থানান্তরিত হতে দেয়। যাত্রাপথে এলএনজির সরবরাহ কমে গেলেও, ট্রেনটি না থেমে ডিজেলে তার যাত্রা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যায়।

পরিবেশ দূষণ রোধ করবে এই ট্রেন

প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনগুলো প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে, যা রেললাইনের আশপাশের বায়ুর গুণমান খারাপ করে দেয়। দাবি করা হচ্ছে, এই এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল সিস্টেম বিষাক্ত গ্যাসের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এর ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এই সিদ্ধান্তটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রেল নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণরূপে সবুজ করে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী হবে।

google button