১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড, পেট্রোল-ডিজেল বিক্রিতে লিমিট বেঁধে দিল পাম্প

Published:

Jio BP and Nayara Energy Cap Petrol, Diesel Purchases

অনন্যা সরকার: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন আকাশ ছুঁয়েছে। সেখানে ভারত সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দেশে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। এই সমস্ত কারণগুলির জন্য কারণে জিও-বিপি (Jio-BP) এবং নায়ারা এনার্জির (Nayara Energy) মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করল জিও-বিপি ও নায়ারা এনার্জি

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে পৌঁছালেও, মে মাস থেকে পেট্রোল পাম্পে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, যার ফলে সংস্থাগুলোর লোকসান হচ্ছে। যারা ড্রামে জ্বালানি ভরে চড়া দামে বিক্রি করে, সেইসব মজুতদারদের রুখতেই সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। নায়ারার আউটলেটগুলোতে এখন একটি গাড়িতে ৭০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল এবং ৩০ লিটার পেট্রোল ভরার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। জিও-বিপি গ্রাহক পিছু প্রতিদিন ৫০ লিটারের ডিজেলের ভরার সীমা নির্ধারণ করেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সরবরাহ সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সারা  বিশ্বে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে, ভারতীয় শোধনাগারগুলোর জন্য দেশে কম দামে তেল বিক্রি করার বদলে বিদেশে রপ্তানি করা বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:৩১৬১ কোটি বরাদ্দ, ৩.২৭ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঋণ মকুবের টাকা দিচ্ছে সরকার

রেটিং সংস্থা আইসিআরএ (ICRA)-এর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থাগুলো পেট্রোলে প্রতি লিটারে প্রায় ৫ টাকা এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ২৩ টাকা লোকসান করেছে। এখন, অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এর আগে, এপ্রিল মাসে জিও-বিপি একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বেসরকারি পেট্রোল পাম্পে নিষেধাজ্ঞার পর, গ্রাহকরা এখন ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর মতো সরকারি সংস্থা পরিচালিত পেট্রোল পাম্পগুলিতে ভিড় করছেন। দেশের খুচরা জ্বালানি বাজারের ৯০ শতাংশই এই তিনটি সংস্থার দখলে।

আরও পড়ুন: গঙ্গার উপর দিয়ে তৈরি হবে রোপওয়ে, আকাশপথে করবেন ভ্রমণ, বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর জানান, কোন দামে জ্বালানি বিক্রি করার কারণে সরকারি শোধনাগারগুলির দৈনিক প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। বিক্রয় নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে পরিবহন ক্ষেত্রের ওপর। ট্রাক চালকরা অভিযোগ করছেন যে, বেসরকারি পাম্পগুলিতে প্রতি গাড়িতে ডিজেলের পরিমাণ কমে যাওয়ায়, তাঁদের ঘন ঘন গাড়ি থামাতে হচ্ছে, যার ফলে যাতায়াতের সময় এবং খরচ দুই বাড়ছে।

google button