স্টেশনে দোকান খুলে ব্যবসার সুযোগ, কীভাবে পাবেন জায়গা? কত টাকা লাগবে জানেন?

Published:

Railway Station Shop

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই চোখে পড়ে চা, খাবার, বই কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান (Railway Station Shop)। এই দোকানগুলির সবই যে রেলের নিজস্ব, তা কিন্তু নয়। রেলের নিয়ম মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে অনেক ব্যক্তিই ব্যবসা করার সুযোগ পান। রেলস্টেশনে দোকান খোলার বাবা ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকলে সরাসরি কোনও জায়গা দখল করে দোকান বসানো যাবে না। এটা পুরোপুরি আইনবিরুদ্ধ। দোকান খুলতে হলে, নির্দিষ্ট টেন্ডার প্রকাশের অপেক্ষা করতে হয়। স্টেশন ও দোকানের ধরন অনুযায়ী রেল বা IRCTC-র তরফে টেন্ডার কিংবা ই-অকশন ডাকা হয়, তারপরেই আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

কীভাবে আবেদন করবেন?

এর জন্য প্রথমেই রেলের বিভিন্ন জোনের ওয়েবসাইট এবং IRCTC-র সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বা ই-অকশন পোর্টালে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্টেশনে দোকানের জন্য কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে, সেখানে দেওয়া যোগ্যতা, উল্লেখিত বিভিন্ন শর্ত এবং আবেদনের সময়সীমা এই বিষয়গুলি ভালো করে দেখে নিতে হবে। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। কোনও কোনও টেন্ডারে আবার ডিজিটাল সিগনেচারের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সিকিউরিটি ডিপোজিট বা নির্দিষ্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়মও থাকে। তাই আবেদন করার আগে পুরো টেন্ডার নথিটি ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।

কী কী নথি লাগতে পারে, কতদিনের লাইসেন্স?

টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর ব্যবসা সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি চাওয়া হয়ে থাকে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, ছবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী GST রেজিস্ট্রেশনের নথি লাগতে পারে। খাবারের দোকান বা ক্যাটারিং ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য খাদ্য-সংক্রান্ত লাইসেন্সও প্রয়োজন হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে প্রতিটি টেন্ডারের নিয়ম কিন্তু এক নয়। তাই কোন নথি জমা দিতে হবে তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। টেন্ডারে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স দেওয়া হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই লাইসেন্সের সময়সীমারও পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ দোকানের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯ বছর এবং খাবার বা পানীয়ের স্টল ও ক্যাটারিং ইউনিটের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: সাড়ে তিন লক্ষ টাকা হতে পারে সোনার দাম!

এর জন্য কত টাকা লাগতে পারে?

রেলস্টেশনে দোকান নেওয়ার খরচ নির্দিষ্ট কোনও এক অঙ্কে বলাটা সম্ভব নয়। টেন্ডারের ধরন, স্টেশন, দোকানের ক্যাটাগরি এবং বিডের অঙ্ক অনুযায়ী খরচে বদল ঘটতে পারে। উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন ও টেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত ফি বা সিকিউরিটি ডিপোজিট প্রায় ৪০ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে কোনও স্টেশনে দোকান নেওয়ার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট টেন্ডারের শর্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক বিডের উপর নির্ভর করবে। তাই দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সমস্ত শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি, লাইসেন্সের মেয়াদ এবং আর্থিক বিষয়গুলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। সমস্তটা ভালোভাবে পড়ার পর বিচার বিবেচনা করে তবেই আবেদন করা উচিত।