ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত রাঁচি, বিধানসভা ঘেরাও বিক্ষোভকারীদের, জলকামান ছুঁড়ছে পুলিশ

Published:

Ranchi Protest

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লি, কলকাতার পর এবার ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ডের রাঁচি (Ranchi Protest)। রাজ্যের একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলছে আন্দোলন। এমনকি রাজ্যটির মুক্তি মোর্চা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিষয়ে কোনও পদত্যাগ হবে না! সেই সূত্র ধরেই সোমবার বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয় জেন-জিরা। যদিও সবরকম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছিল পুলিশ। এমনকি বিধানসভার দিকে আন্দোলনকারীরা এগোতে থাকলে পুলিশ জলকামান পর্যন্ত ছোঁড়ে। সেখানেই তৈরি হয় রণক্ষেত্র।

ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ডের রাঁচি

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বেশ কিছু নিয়োগ পরীক্ষায় সম্প্রতি প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। চাকরিপ্রার্থীদের স্পষ্ট দাবি, নিয়োগের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এমনকি তার জন্য পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলাতে হবে। এই দাবিতেই এতদিন চলছিল আন্দোলন। এমনকি নিট আন্দোলনে যেমন দীর্ঘ ২৭ দিন অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক, ঠিক তেমনই এই আন্দোলনে ছাত্রদের হয়ে অনশনে বসেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তবে রাজ্যটি সরকারের দাবি, “কোনও পদত্যাগ হবে না। আর যে কোনও পরিস্থিতিতে সিবিআই কিংবা ইডি তদন্ত হবে না।” সেই দাবির বিরুদ্ধেই সোমবার বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয় ছাত্ররা।

এদিন হাতে তেরঙ্গা পতাকা এবং প্লাকার্ড নিয়েই বিধানসভার দিকে এগোতে থাকেন ছাত্র যুবরা। এমনকি দীর্ঘ কয়েকদিন অনশনে থাকার জেরে ১০.৫ কেজি ওজন কমা সত্বেও দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো অনশনরত অবস্থাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই মিছিলে যোগ দেন। তবে এই মিছিল রুখার জন্য রাজ্যের মুক্তি মোর্চা সরকারের তরফ থেকে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী। এমনকি বিধানসভা চত্বর পুরো ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি, “আমাদের এখানে আটকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাব। দাবি পূরণ হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থামাব না। আমাদের দাবি, জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা হোক এবং সিবিআই তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক।”

আরও পড়ুন: হাসপাতালে কটি বেড খালি তা জানা যাবে AI-র মাধ্যমেই, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, বিধানসভার অভিমুখে বিক্ষোভকারীদের রুখতে পুলিশ তাদের উপর জলকামান পর্যন্ত ছোঁড়ে। তবে মজার ব্যাপার এই যে, সেই জলকামানের সামনে দাঁড়িয়েই নাচানাচি শুরু করেন প্রতিবাদী ছাত্ররা। দাবি থেকে বিচ্যুত হননি তারা। এমনকি দিল্লির মতো লাঠিচার্জের অভিযোগও উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এখন দেখার রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়।