আদৌ গুণ্ডা দমন বিল ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি? জানিয়ে দিল সরকার

Published:

Anti-Goonda Bill

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের মধ্যে যাতে কোনও দাঙ্গা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে জুলাই মাসে বিধানসভায় গুণ্ডা দমন বিল (Anti-Goonda Bill) পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই বিতর্কিত ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল নাকি সই না করেই পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এমনটাই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে। তবে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা পিআইবি জানিয়ে দিল, ওই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো।

গুণ্ডা দমন বিল ফেরত পাঠাননি রাষ্ট্রপতি?

গতকাল প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ফ্যাক্ট চেক ইউনিট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুণ্ডা দমন আইন সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল অর্থাৎ গুণ্ডা দমন আইন ২০২৬ ফেরত পাঠিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিআইবি জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে বিলটি এখনও পর্যন্ত পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

এমনকি পিআইবি ফ্যাক্ট চেক ইউনিট জনগণকে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন বা যাচাইবিহীন তথ্যের উপর নির্ভর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং শুধুমাত্র যাচাইকৃত উৎসের উপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। বস্তুত, সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হচ্ছিল যে মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সামঞ্জস্য থাকার কারণেই রাষ্ট্রপতি মুর্মু প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন, এবং রাজ্য সরকারের কাছে সেটি পর্যালোচনার সুযোগও রয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সরকারি ফ্যাক্ট চেক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এবার জানিয়ে দিল যে রাষ্ট্রপতি এমন কোনও সিদ্ধান্তই নেননি।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করলেন হুমায়ুন কবীর, হঠাৎ কী হল AJUP নেতার?

বলাবাহুল্য, গত ১৩ জুলাইন বিধানসভায় গুণ্ডা দমন আইন কার্যকর করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সেই আইন নিয়ে মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। গত ৬ আগস্ট আদালতের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই বিলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলা খারিজও করে দেয় এবং আদালত জানিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রপতি যেহেতু সই করেননি, তাই সেটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। বড় ব্যাপার, এই বিলের আওতায় দাঙ্গা, ভাঙচুর বা আগুন লাগিয়ে কোনও সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি করলে তা দোষীর কাছ থেকেই আদায় করার অধিকার রাখবে সরকার। এমনকি প্রশাসন যদি মনে করে যে, কেউ জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বা সমাজবিরোধী চক্রান্তে জড়িত, তাহলে ঘটনা ঘটার আগেই তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত হাজতে রাখা যাবে।

google button