পুজোর কেনাকাটায় টাকা বাঁচাতে কাজে লাগান এই ৯টি টিপস

Published:

shopping

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজো (Durga Puja) মানেই নতুন জামাকাপড়, জুতো, ব্যাগ, গয়না থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার সব মিলিয়ে কেনাকাটার (Shopping) তালিকা যেন শেষই হতে চায় না। উৎসবের আনন্দে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচও হয়ে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন অফার ও ডিসকাউন্টের হাতছানিতে এমন কিছু জিনিসও আমরা কিনে ফেলি, যা হয়তো আদৌ প্রয়োজন ছিল না। তাই পুজোর শপিংয়ের আগে একটু পরিকল্পনা করে নিলে আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি খরচেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জেনে নিন এমনই ৯টি সহজ কৌশল।

১. আগে থেকেই বাজেট ঠিক করে নিন

শপিংয়ে বেরোনোর আগে মোট কত টাকা খরচ করবেন, সেটা ঠিক করে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। শুধু মোট বাজেট ঠিক করলেই হবে না, পোশাক, জুতো, ব্যাগ, অ্যাক্সেসরিজ এবং উপহারের জন্য আলাদা করে কতটা খরচ করবেন, তারও একটা হিসাব করে রাখুন। এতে প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে খরচ করার প্রবণতা কমবে।

২. শপিং লিস্ট তৈরি করুন

দোকানে গিয়ে যা পছন্দ হবে, সেটাই কিনতে শুরু করলে বাজেট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই একটি শপিং লিস্ট তৈরি করুন। কোন পোশাক প্রয়োজন, কার জন্য উপহার কিনবেন, কী কী জিনিস ইতিমধ্যেই রয়েছে সবটা মাথায় রেখে তালিকা করলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

৩. অনলাইন ও অফলাইনে দাম তুলনা করুন

কোনও জিনিস পছন্দ হলেই সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলবেন না। একই বা একই ধরনের পণ্যের দাম বিভিন্ন অনলাইন এবং অফলাইন দোকানে দেখে নিন। অনেক সময় অনলাইনে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে দরদাম করে আরও কম দামে জিনিস পাওয়া সম্ভব। তাই কেনার আগে প্রাইস কমপ্যারিজন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ডিসকাউন্ট দেখেই আকৃষ্ট হবেন না

পুজোর আগে বিভিন্ন দোকানে ‘ফিফটি পারসেন্ট অফ’, ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ বা ক্যাশব্যাকের মতো নানা অফার দেখা যায়। কিন্তু কোনও অফার দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে তার শর্তগুলি দেখে নেওয়া জরুরি। ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রে মিনিমাম পারচেজ বা ম্যাক্সিমাম ক্যাশব্যাকের একটা সীমা থাকতে পারে। তাই আসলে কতটা টাকা বাঁচছে, সেটা হিসাব করে তবেই কেনাকাটা করুন।

৫. পছন্দের জিনিসের দাম আগে থেকেই নজরে রাখুন

অনলাইনে শপিং করলে কোনও পণ্যের দাম আগে কত ছিল এবং বর্তমানে কত দেখানো হচ্ছে, সেটা দেখে নেওয়া ভালো। শুধু ডিসকাউন্টের শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে। কয়েক দিন আগে থেকেই পছন্দের জিনিসের দাম নজরে রাখলে সত্যিই দাম কমেছে কি না, তা বোঝা সহজ হবে।

অনলাইনে পোশাক কেনার আগে বিভিন্ন সাইটে দাম মিলিয়ে নিন। বাইহ্যাটকে-র মতো প্রাইস কম্প্যারিজন অ্যাপ ব্যবহার করে একাধিক শপিং সাইটে একই পণ্যের দাম তুলনা করা যায়। এতে কোথায় কম দামে পছন্দের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, তা সহজেই বুঝে নিতে পারবেন।

৬. পুরনো পোশাকের সঙ্গে নতুন পোশাক মিলিয়ে নিন

পুজোর প্রতিটি দিনের জন্য নতুন পোশাক কেনার প্রয়োজন নেই। নতুন একটি কুর্তা, টপ বা শাড়ির সঙ্গে আগের বছরের ভালো থাকা জুতো, ব্যাগ বা অন্য কোনও অ্যাক্সেসরি মিলিয়ে নতুন লুক তৈরি করা যেতে পারে। এতে পুজোর সাজেও বৈচিত্র্য থাকবে, আবার কেনাকাটার খরচও কমবে।

৭. বাজারে গেলে দরদাম করতে ভুলবেন না

যে সমস্ত দোকানে ফিক্সড প্রাইস নেই, সেখানে দরদাম করে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের বাজার বা বিভিন্ন লোকাল মার্কেটে একই ধরনের জিনিসের দাম দোকানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই প্রথম দোকানেই পছন্দের জিনিস কিনে না নিয়ে অন্য দোকানেও দাম জেনে নেওয়া ভালো।

৮. শেষ মুহূর্তের শপিং এড়িয়ে চলুন

পুজো যত এগিয়ে আসে, বাজারে ভিড় তত বাড়ে। শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে গেলে সময়ের অভাবে অনেক সময় দাম তুলনা না করেই জিনিস কিনে ফেলতে হয়। তাই সম্ভব হলে কিছুটা আগে থেকেই শপিং শুরু করুন। এতে পছন্দের জিনিস বেছে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যাবে এবং অযথা খরচের সম্ভাবনাও কমবে।

৯. ইএমআই বা ‘বাই নাউ, পে লেটার’-এর ফাঁদে পা দেবেন না

মাসে অল্প অল্প করে টাকা দেওয়ার সুবিধা দেখে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দামের জিনিস কিনে ফেলেন। কিন্তু ইএমআই বা ‘বাই নাউ, পে লেটার’ ব্যবহারের আগে সুদ, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জ রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র সহজ কিস্তির সুবিধার জন্য কেনাকাটা না করাই ভালো।

আরও পড়ুন: কম খরচেই ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড, দারুণ ট্যুর প্যাকেজ নিয়ে এল IRCTC

পুজোর কেনাকাটা মানেই যে প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে, এমনটা নয়। আগে থেকে পরিকল্পনা, প্রয়োজন বুঝে কেনাকাটা এবং অফারের আসল হিসাব বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেই উৎসবের আনন্দের সঙ্গে সাশ্রয়ও সম্ভব। তাই শপিং ব্যাগ ভরার আগে একবার নিজের পকেটের দিকটাও মাথায় রাখুন।

google button