জলের উপরেই ভাসে আস্ত গ্রাম! বাস করেন ৪০০ মানুষ, রইল ঠিকানা

Published:

GK

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কখনও ভেবে দেখেছেন জলের উপরে একটা আস্ত গ্রাম (GK) ভেসে বেড়াচ্ছে? না না, বন্যা দুর্যোগের কারণে নয়, দিন রাত এই গ্রাম ভেসে থাকে জলের উপর, এমনই এক জায়গা রয়েছে আমাদের ভারতে (Unique Places in India)। আসলে ভারতবর্ষে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রীতিমতো হার মানায় বিশ্বের বাকি দেশের সৌন্দর্য্যকে। আজ তেমনই আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এমন এক জায়গার সম্পর্কে জানব যা অনেকেরই অজানা।

জলের মধ্যে ভাসছে গ্রাম

রূপকথায় যেমন আমরা নানা অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস কল্পনা করে থাকি, বাস্তবেও যে তেমন হবে তা কিন্তু আমরা কখনোই আশা করি না। কিন্তু আমাদের ভারতে সত্যিই এক কল্পনার জগৎ রয়েছে, যেখানে জলের মধ্যে একটা আস্ত গ্রাম ভেসে বেড়ায়। আর সেই জায়গাটি হল মণিপুরের বিখ্যাত লোকটাক হ্রদ। এই হ্রদের মধ্যে যে গ্রামটি ভেসে বেড়ায় সেটি হল ‘চাম্পু খাংপোক’। জানা গিয়েছে, এখানে কোনও পাকা রাস্তা নেই এমনকি ইটের বাড়িও নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল। আর তার উপরেই ভেসে রয়েছে মানুষের জীবন।

বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় বাড়ি

শুরুতে লোকটাক হ্রদে শুধু জল ছিল, কিন্তু পরে এক ধরনের বিশেষ ঘাস, লতাগুল্ম আর মাটির স্তর জমে জমে কিছুটা শক্ত হয়েছে। পরে সেগুলো জলের কারণে পচে গিয়ে এক ধরনের পুরু চাদর তৈরি করে। যাকে স্থানীয় ভাষায় বলে ‘ফুমডী’। তার উপর অনায়াসে মানুষ হেঁটে চলে যেমন বেড়াতে পারে তেমনি সেখানে তৈরি হয়েছে ঘরবাড়ি। এখানে ঘরবাড়িগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি করা থাকে। প্রায় ১৩৪টি বাঁশের বাড়ির মধ্যে প্রায় ৪০০ জন মানুষ বাস করে। বাড়িগুলোকে স্থানীয়রা ‘ফুমশাং’ বলে। এখানকার গ্রামবাসীদের জীবিকার প্রধান উৎস হল মাছ ধরা। মাছ ধরে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়েই চলে তাঁদের সংসার, কেনা হয় চাল-ডাল আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস।

আরও পড়ুন: পুত্রদের পাশাপাশি মেয়েরাও কি তর্পণ করতে পারে? জানুন কী বলছে শাস্ত্র

জলের স্রোত আর হাওয়ার টানে মাঝেমধ্যেই গ্রামের একটা অংশ একদিক থেকে অন্যদিকে ভেসে চলে যায়, অর্থাৎ যে বাড়িটি হ্রদের পূর্ব দিকে আছে, কয়দিন পরে সেই বাড়িটি পশ্চিমে চলে যাবে। তবে এই ভাসমান গ্রামের মানুষদের অসংখ্য অসুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ। সন্ধে নামলেই চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যায়। যদিও বর্তমানে কিছু বাড়িতে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তাঁরা প্রকৃতিকে বেশ ভালোবাসে, তাইতো সেখানে কোনো দূষণ নেই।

google button