প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সূচনা হল দেবীপক্ষের (Durga Puja 2026)। পাড়ায় পাড়ায় সেজে উঠেছে পুজো মণ্ডপগুলি, শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমাসজ্জার কাজ। কিন্তু এত কিছুর মাঝে আজও দুর্গাপুজোর প্রাচীন বাংলা প্রবাদ (Durga Puja Proverbs) সকলের মনে এক আলাদা জায়গা করে রয়েছে। আর সেটি হল, মা মর্ত্যে এসে পোশাক পরেন ও সাজেন শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িতে। খেতে যান কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্রের বাড়িতে এবং রাত জেগে নাচ দেখেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। কিন্তু জানেন উত্তর কলকাতার এই তিন বনেদি বাড়ি (Bonedi Bari Puja History) কেন জড়িত এই প্রবাদের সঙ্গে? চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়ি
শোনা যায়, ১৮৩৯ সালে শিবকৃষ্ণ দাঁ-র হাত ধরে জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। মহালয়ার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ প্রতিপদ থেকেই এই বনেদি বাড়ির পুজো শুরু হয়ে যায়। বলা হয় না দুর্গা নাকি এখানে এসে সোনার গয়না পরে সাজেন। আসলে শিবকৃষ্ণ দাঁ নিজে সোনার গয়নায় সাজতে যেমন ভালবাসতেন, একই ভাবে মনের মতো করে দেবী দুর্গাকেও হিরে-চুনী বসানো গয়না-শাড়ি সাজিয়ে তুলতেন তিনি। আর সেই থেকেই এই প্রবাদ বাক্য প্রচলিত যে, দেবী মর্ত্যে এসে আগে দাঁ বাড়িতে সাজেন।
অভয়চরণ মিত্রের বাড়ি
কথিত আছে সাজসজ্জার পরে নাকি দেবী দুর্গা যান উত্তর কলকাতার কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্রের বাড়িতে। সেখানে তিনি ভোজ সারেন। আসলে এই বাড়িতে শুরু থেকেই মা দুর্গাকে মাখনের নৈবেদ্য, চালের নৈবেদ্য, নানা রকমের ভাজাভুজি, লুচি, রাধাবল্লভী, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি-সহ হরেক পদ নিবেদন করা হয়। তাই তখন থেকেই এই প্রবাদ প্রচলিত রয়েছ যে দেবী অভয়চরণ মিত্রের বাড়িতে ভোজ খান। এখানেই শেষ নয়, বলা হয় সবকিছুর পর নাকি দেবী দুর্গা আসেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। কারণ সেখানে নাকি তিনি রাত জেগে নাচ দেখেন।
আরও পড়ুন: জানেন ভারতে কেন এত ধর্মস্থল রয়েছে?
শোভাবাজারের রাজবাড়ি
রাজা নবকৃষ্ণ দেব নাকি তাঁর বাড়ির দুর্গা পুজোয় ইংরেজ এবং অন্যান্য অতিথিদের বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতেন। জলসার আয়োজনে আনা হত নামী-দামি বাইজিদের। বাড়ির এই এলাহী আয়োজনের জন্য শেষে লোকমুখে এই প্রবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে দেবী নাকি এখানে রাতভর নাচ দেখেন। যদিও পুজোর এই প্রাচীন প্রবাদগুলি এখনও বেশ জনপ্রিয়। তাইতো যুগের পর যুগ ধরে কলকাতার এই তিন বনেদি বাড়ি দুর্গাপুজোর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।










