প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দুর্গোৎসব (Durga Puja 2026) শুরু হতে আর বাকি মাত্র কয়েকটা দিন, পাড়ায় পাড়ায় চলছে মণ্ডপ সজ্জা তৈরির প্রস্তুতি। এমনকি প্রতিমা গড়ার (Durga Puja Idol) কাজেও চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। নাওয়া খাওয়া ভুলে মৃৎশিল্পীরা মাকে সাজাতে যেন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ধাপে ধাপে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে মায়ের এই মৃন্ময়ী রূপ। কিন্তু জানেন কি যৌন পল্লীর মাটি ছাড়া কিছুতেই তৈরিই হয় না উমার মূর্তি (Unknown Facts)? এমনকি একটা সময় ব্রাহ্মণরা নিজে গিয়ে মন্ত্র পাঠ করে মাটি নিয়ে আসতেন সেই নিষিদ্ধ পল্লি থেকে। কিন্তু কেন এই প্রথা প্রচলিত সেই নিয়ে আলোচনা করা হল বিস্তারিত।
কেন দরকার পড়ে যৌন পল্লীর মাটির?
সমাজের কাছে চিরকাল অবহেলিত যৌন পল্লীর মহিলারা, নেই কোনো সম্মান, স্বাধীনতা। অথচ জগতের কী অদ্ভুত নিয়ম, তাঁদের পাড়ার মাটি ছাড়া অসম্পূর্ণ বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। শাস্ত্র মতে বহু যুগ ধরেই চলে আসছে এই নিয়ম। বলা হয়, যৌনকর্মীর বাড়ির দরজায় নাকি পুরুষরা নিজেদের সঞ্চিত সমস্ত পুণ্য বিসর্জন দিয়ে আসে। সে কারণেই ওই মাটি পবিত্র হয়ে ওঠে। আর তা দিয়ে গড়া হয় মাতৃমূর্তি। আবার অনেকে বলে এই সময়ে মা দুর্গা নাকি নয় রূপে পূজিত হয়ে থাকেন। যার মধ্যে আটটি রূপ হল নর্তকী, কাপালিক, ধোপানী, নাপিতানী, ব্রাহ্মণী, শূদ্রাণী, গোয়ালিনী ও মালিনী। আর নবম রূপ যৌনপল্লিরই প্রতিনিধি পতিতা। মনে করা হয়, এই কারণে এই প্রথার জন্ম হয়ে থাকতে পারে।
ভিন্ন মত, ভিন্ন ব্যাখ্যা
পুরাণে বলা হয়, ঋষি বিশ্বামিত্র কঠোর তপস্যা করছিলেন ইন্দ্রত্ব লাভের জন্য। দেবরাজ ইন্দ্র সেই তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য স্বর্গের অপ্সরা মেনকাকে পাঠিয়েছিলেন। এমনকি মেনকা এই কঠিন কাজটি সম্পন্নও করেছিলেন। সেই থেকেই নাকি যৌনপল্লির মাটি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়। অন্যদিকে সমাজ বিশ্লেষকদের মতে সকল স্তরের নারীর শক্তিকে একত্র করার উদ্দেশ্যেই এই প্রথা শুরু হয়েছে। তাই আজও এটি মানা হয়। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে মায়ের মূর্তির মাটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুজোর আবেগ সর্বজনীন।
আরও পড়ুন: মহিলারা পায়ের আঙুলে কেন পরেন চুটকি? জানুন আসল কারণ
আসলে সমগ্র নারী শক্তির প্রতিনিধি হলেন দেবী দুর্গা। জাতি, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে সনাতনী শক্তির প্রতীক হলেন এই দেবী। যিনি অশুভ শক্তিকে দূর করতে মহা শক্তিশালী অসুরকে দমন করেছিলেন। তাই যুগের পর যুগ ধরে সকল স্তরের নারী শক্তিকে সম্মান জানাতেই এই পুজো হয়ে আসছে।










