কীর্তির বদলে কাকলি, বাদ দোলা! নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের 

Published:

Abhishek Banerjee Letter to Om Birla

অনন্যা সরকার, কলকাতা: শনিবার সংসদের রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে কাকলী ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidars) নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলাকে চিঠি লিখলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি এই নিয়োগ বাতিল করে কমিটির চেয়ারম্যান পদটি দল থেকে মনোনীত কোনো সদস্যকে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর চিঠিতে অভিষেক ব্যানার্জী ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর তারিখের লোকসভা বুলেটিন-দ্বিতীয় পর্ব নং ৬১৮৫-এর কথা উল্লেখ করেন।

আপত্তি জানিয়ে ওম বিরলাকে অভিষেকের চিঠি 

লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে এমন এক সদস্যকে নিয়োগ করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে দশম তফসিলের অধীনে অযোগ্যতার একটি আবেদন লোকসভার স্পিকারের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ হারিয়েছে। শনিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন ও লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা বিভিন্ন বিভাগ-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করেছেন। 

এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে, টিএমসি-র দোলা সেনের পরিবর্তে বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদীকে বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির নতুন চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর, রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে টিএমসি-র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের হাতে। তিনি তাঁর প্রাক্তন দলীয় সহকর্মী কীর্তি আজাদের জায়গায় এই দায়িত্ব পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: আসছে নয়া শিল্পবান্ধব নীতি, বাংলায় ফের ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি, ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখের চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যে, অযোগ্যতার আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ২০ জন সদস্যকে বিভাগ-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে নিয়োগের জন্য বিবেচনার বাইরে রাখা হোক। অভিষেক ব্যানার্জী জানান যে, তাঁর আগের চিঠিতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি লোকসভা স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব রাখার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এই লক্ষ্যে, দলের তরফে বর্তমান চেয়ারপার্সনকে ধরে রাখার জন্য তাদের মনোনয়নও জমা দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাসায়নিক ও সার কমিটির নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে দলের আপত্তি এবং তাদের মনোনয়ন দুটিকেই উপেক্ষা করা হয়েছে।

অভিষেক ব্যানার্জী তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন যে, ডিজিটাল পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে বর্তমানে লোকসভায় ২৮ জন এআইটিসি সদস্য দেখানো হচ্ছে। এদিকে, কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে নিযুক্ত সদস্য একটি মার্জার বা একভুতকরণের ভিত্তিতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করছেন। অভিষেক বলেন, বিচারাধীন অযোগ্যতা ঘোষণার মামলায় এই মার্জার একটি বিবাদের বিষয়। তিনি লোকসভার স্পিকারকে প্রশ্ন করেছেন যে, আসলে কোন রাজনৈতিক দলকে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে?

আরও পড়ুন: পুজোয় চলবে ২২ কোচের স্পেশাল ট্রেন, বড় ঘোষণা রেলের

অভিষেক এই প্রশ্নও তুলেছেন যে, যদি সভাপতিত্ব অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে দলের সুস্পষ্ট ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কেন তাদের মনোনীত সদস্যকে বদল করা হলো? যদি পদটি এনসিপিআই-কে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে কোন ভিত্তিতে তাদের অন্তর্ভুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো এবং কোন ভিত্তিতে তাদের কমিটির সভাপতিত্ব দেওয়া হলো? তিনি বলেছেন যে, কোনো সদস্যের দলীয় অধিভুক্তির বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থাতে তাঁকে সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ করা সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিষেক স্পষ্ট করেছেন যে, এই নিয়োগকে তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া একটি কমিটির চেয়ারম্যান পদ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তাঁর দাবি, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা যেন সংশ্লিষ্ট নিয়োগটি বাতিল করেন ও রাসায়নিক ও সার কমিটির চেয়ারম্যান পদটি যথাযথভাবে তৃণমূলের থেকে মনোনীত কোনো সদস্যকে অর্পণ করেন। তিনি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন অযোগ্যতার আবেদনগুলোর বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানান। অভিষেক ব্যানার্জি তাঁর চিঠিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি লিখিত জবাবও চেয়েছেন।

google button