রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর

Published:

Humayun Kabir (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই রাজনীতি (Politics) থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। চোখে জল নিয়ে দাবি করেন, আর কোনও আশা নেই। রেজিনগরে বিজেপি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারে পারে। বিজেপির বিজয়ী হওয়া তিনি যে কিছুতেই মেনে নিতে পারবেন না সেটা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

“সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি”- হুমায়ুন কবীর

রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া আসন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্রেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন এবং সেখানে নিজের ছেলে গোলাম নবি আজ়াদকে এজেইউপি-র প্রার্থী করেন। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। এরপর তাঁকে আটক করে পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তিনি ছাড়া পান।

বুধবারের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, একজন নির্বাচিত বিধায়ককে কি কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে? এইটা কেমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা? এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তিনি আস্থা রাখতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।” একইসঙ্গে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর একজন বিধায়ককে জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি।”

এখানেই থামেননি তিনি, নওদার মানুষের কাছে করজোরে ক্ষমা চেয়েছেন এজেইউপি প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি বিধানসভায় যাবেন না। হুমায়ুনের কথায়, “যতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন, ততদিন বিধানসভায় যাব না। এজন্য নওদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।” তবে তিনি এখনই বিধায়ক পদ ছেড়ে দিচ্ছেন না। নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘ঘরে ঢুকে মেরেছি’ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নাম না নিয়েই পাকিস্তানকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

রেজিনগরের ভোট নিয়ে নিজের পূর্বাভাসের কথাও এদিন স্পষ্ট করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, বিজেপি এই কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে জিততে পারে। যদিও ভোটের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণার কথা। ফলে হুমায়ুনের এই রাজনৈতিক পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা মেলে, সেই দিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের।

google button