নোটার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই লড়তে হবে তৃণমূলকে, ফলতায় জিতেই বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

Published:

Suvendu Adhikari

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) দেওয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছেন ফলতাবাসী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল গুঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডাকে 1 লাখ 9 হাজার ভোটে জিতিয়েছেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ। আর সেই ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই একেবারে হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় মুখ করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নানান কথা বলেছিলেন, সেসবের পরিপ্রেক্ষিতেই তৃণমূলকে কার্যত খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লিখলেন, আগামী দিনের তৃণমূলের লড়াই হবে নোটার সাথে!

তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে ঠিক কী লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী?

ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে সেখানে সভা করে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সাথে, ফলতার মানুষের কাছে তিনি আবেদন জানান, তাঁরা যেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দেবাংশুকে 1 লাখ ভোটে জেতান। মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখলেন ফলতার মানুষ। রবিবার ভোট বাক্স খুলতেই দেখা যায় ধীরে ধীরে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে ভোটের নিরিখে বিরাট পার্থক্য তৈরি করলেন দেবাংশু। শেষে ফলাফল যা বেরোলো তা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। একেবারে 1 লাখ 9 হাজার ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী।

যে ফলতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অংশ। যেখানে এতদিন রাজ করে এসেছেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান, তৃণমূল কংগ্রেসের সেই ঘরের মাঠে একেবারে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এর আগে অবশ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মুখেই হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, বিজেপির দুই প্রার্থীকে ডায়মন্ড হারবার বাজারে মাছ কাটাবেন। শুধু তাই নয়, তিনি এও বলেন, দশ জন্মেও তাঁর ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না বিজেপি! দিল্লি থেকে শক্তি প্রয়োগ করেও কাজ হবে না।

আরও পড়ুনঃ ১ জুন মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস চালুর আগেই কড়া নির্দেশিকা পরিবহণ দফতরের

রবিবার ফলতায় বিপুল ভোটে বিজেপি জয়লাভ করতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেল পরিণত হল তৃণমূল হার-বার মডেলে। আমি বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার জন্য ফলতার মানুষকে নতমস্তকে প্রণাম জানাই। একটি নীতি আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছিল।”

অবশ্যই পড়ুন: দুর্নীতিতে জড়িত জাহাঙ্গীর ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সি! এবার মুখ খুললেন মা শংকরি

এদিন আলাদাভাবে নাম উল্লেখ না করেই বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। লেখেন, “প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই যা সংঘটিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি এই বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল!” এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পূর্বতন সরকারের একগুচ্ছ দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে বলতেই শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “এটা তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘযাত্রা এবার অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে নোটার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে নোটার কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী…”