নির্দিষ্ট দোকান থেকে ওষুধ না কেনায় প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি, রোগীকে হেনস্তা আরামবাগে

Published:

Arambagh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্দিষ্ট ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ না কেনায় শুরু হল চরম অশান্তি। রোগী ও পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগ উঠল আরামবাগে (Arambagh) এক ওষুধ দোকানদারের বিরুদ্ধে। প্রায় সময়ই দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট একটি ওষুধের দোকানে চিকিৎসককে দেখানো হলেও সেই দোকান থেকে ওষুধ না কিনলে অনেক সময় ঝামেলা করেন দোকানদারেরা। অনেককেই আবার বাধ্য করেন ওষুধ কিনতে। এবার সেই নিয়ে চরম শোরগোল শুরু হল এলাকায় (Arambagh Medicine Shop Harassment)।

ওষুধ না কেনা নিয়ে ক্ষোভ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল রবিবার আরামবাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় রবীন্দ্র নগরে একটি ওষুধের দোকানে রোগী চিকিৎসককে দেখানোর পর ওই দোকান থেকে ওষুধ না কেনায় রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করেছিল দোকানদার। জানা গিয়েছে, পঙ্কজ বাবু ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসককে ফি বাবদ ৫০০ টাকা দেওয়ার পরে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু রোগী সেই দোকান থেকে ওষুধ না কেনায় অশান্তি শুরু হয়। প্রেসক্রিপশন নিয়ে রীতিমতো টানাটানি করার পাশাপাশি গালিগালাজ করার অভিযোগও ওঠে দোকানদারের বিরুদ্ধে।

কী বলছে রোগীর পরিবার?

ঝামেলা অশান্তির সময় দোকানদার স্পষ্টভাবেই রোগী এবং তার পরিবারকে জানিয়ে দেয় ভবিষ্যতে যাতে এই দোকানে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য না আসে। আর এই কথা বলতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় রোগীর পরিবার। তাঁদের দাবি চিকিৎসকের প্রাপ্য ফি যা সেটাই দেওয়া হয়েছে কিন্তু ওষুধ কোথা থেকে কেনা হবে সেটা সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়। যেখানে বেশি পরিমাণে ছাড় দেওয়া হবে সেখান থেকেই ওষুধ কেনা হবে। এই নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হলেও শেষে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও পড়ুন: শিক্ষক বদলিতে দুর্নীতির অভিযোগ! এবার নতুন সরকারকে বিঁধলেন ভাস্কর ঘোষ

গোটা ঘটনার দোকানদারের দাবি ব্যবসায়ীর স্বার্থে দোকান খোলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসককে দেখানোর পাশাপাশি কিছু তো ওষুধ কেনা উচিত, নইলে আমাদের চলবে কী করে? যদিও সেই নিয়ে তর্ক করছেন স্থানীয়রা। সকলের দাবি, রোগী কোথা থেকে ওষুধ কিনবেন, তা নিয়ে কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রোগীর পরিবারের অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের হয়রানির বিষয় নয়, বরং রোগীদের অধিকার এবং চিকিৎসা পরিষেবার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

google button