শিক্ষক বদলিতে দুর্নীতির অভিযোগ! এবার নতুন সরকারকে বিঁধলেন ভাস্কর ঘোষ

Published:

Teacher Transfer

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষক বদলি (Teacher Transfer) নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হল রাজ্যের অন্দরে। শহরকেন্দ্রিক স্কুলগুলিতে অতিরিক্ত শিক্ষক এবং গ্রামীণ স্কুলগুলিতে শিক্ষক ঘাটতির সমস্যা মেটাতে নতুন সরকারের বদলির উদ্যোগকে সমর্থন করা হলেও এবার সেই প্রক্রিয়া কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে সরব হলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ (Bhashkar Ghosh On Teacher Transfer)। অভিযোগ, অতীতে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এখনও গ্রামের স্কুল থেকে শহরের স্কুলে বদলি হওয়া একাংশের শিক্ষক-শিক্ষিকা সুবিধা পাচ্ছেন। এমনকি আদালত অবমাননার অভিযোগও উঠে এসেছে। আর সেই নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হল রাজনৈতিক অন্দরেও।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে ফের শোরগোল

আজ সোমবার, সকালে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ তাঁর ফেসবুকে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া কেন্দ্রিক একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, “আমরা প্রথম থেকেই একথা বলে আসছি প্রশাসন যদি আমলা কেন্দ্রিক হয় তার কাজকর্মের বহিঃপ্রকাশে অহংকারই মূল মন্ত্র থাকে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দুর্নীতি বিগত ১৫ বছর ধরে তার রূপ দেখিয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে, বদলির ক্ষেত্রে, শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাটমানির সিন্ডিকেটে শিক্ষা আধিকারিকদের একটা বড়ো অংশ যুক্ত ছিলেন। এমনকি নতুন শিক্ষা প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে ভুলভাল কাজ এরা এখনো জারি রেখেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব এদের ভুল পরামর্শ থেকে বের হয়ে শিক্ষাকে সঠিক দিকে পরিচালনা করার মত দিশা এখনো পর্যন্ত দেখাতে পারেননি।”

কী বলছেন ভাস্কর ঘোষ?

শিক্ষা দুর্নীতি প্রসঙ্গে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “ উদ্বৃত্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বদলি শিক্ষক ঘাটতি প্রতিষ্ঠানে হওয়া যে উচিত, আমরা এটাকে সমর্থন করি। প্রশ্ন হলো এই বৈষম্য হলো কীভাবে? উত্তর একটাই। বিগত সরকারের আমলের বদলি সিন্ডিকেটের জন্য। কিন্তু বর্তমানে নতুন সরকার এসে যে পদ্ধতিতে উদ্বৃত্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে বদলি করতে চাইছেন তাতে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যারা মূলত গ্রামের স্কুলগুলো থেকে বদলি হয়ে শহরের স্কুলগুলোতে এলেন তাঁরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। কুপ্রভাব পড়ছে সেইসব শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপরে যাঁরা বহু পূর্ব থেকে এসব জায়গাতে শিক্ষকতা করছেন।” জানা গিয়েছে তাঁরা এই বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করলে আদালত চলতি বছর আগামী ১৮ ডিসেম্বর সরকার উদ্বৃত্ত শিক্ষক বদলির SOP-র উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি।

বদলি নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ

ভাস্কর ঘোষের অভিযোগ, রবিবার রাত থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনা সহ বিভিন্ন জেলার DI রা ওই SOP কে হাতিয়ার করে নতুন করে বদলি করতে চাইছেন। প্রাথমিকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে বিভিন্ন জেলার ক্ষেত্রে। এক একটা স্কুলে তিনজন করে রেখে উদ্বৃত্ত তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। ফলস্বরূপ, এই কাজে যুক্ত সকল শিক্ষা আধিকারিকদের আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন। অন্যদিকে প্রাথমিকের SOP প্রত্যাহার করা হবে বলে সরকার লিখিতভাবে হাইকোর্টে জানিয়েছিল কিন্তু তারপরেও যেসব শিক্ষা আধিকারিক এই SOP এর উপরে ভিত্তি করে বদলির নির্দেশ কার্যকর করছেন তারাও আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: চালু হচ্ছে হলদিয়া থেকে মায়াপুর ইসকন মন্দিরে যাওয়ার বাস, জানুন রুট ও সময়সূচি

শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে ভাস্কর ঘোষের আবেদন, বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রত্যেকটা হাইস্কুল এবং প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যেসব শিক্ষক শিক্ষিকা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গ্রামের স্কুলগুলো থেকে বদলি হয়ে এসেছেন তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হোক। এবং তাঁদেরকে খালি স্কুলগুলোর তালিকা দিয়ে তাঁদের পছন্দের স্কুল বেছে নিতে দেওয়া হোক। এরপরেও শিক্ষক উদ্বৃত্ত হলে তাঁদের তালিকা চাকরিতে যোগদানের তারিখ হিসাবে করা হোক। এতে একদিকে যেমন কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না ঠিক তেমনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যাঁরা গ্রামের স্কুলগুলোকে খালি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google button