বকেয়া টাকা মেটাননি আসানসোলের বিধায়ক, প্রতিবাদ করতেই হুমকির অভিযোগ

Published:

mla

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আসানসোলের (Asansol) বিজেপি বিধায়ক (MLA) কৃষ্ণেন্দু মুখার্জিকে (Krishnendu Mukherjee) ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে একের পর এক ভিডিও পোস্ট করে তাঁর বিরুদ্ধে পাওনা টাকা না মেটানো নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন আসানসোলের বাসিন্দা প্রয়াত দেবেন্দ্রনাথ মুখার্জির মেয়ে নেহা মুখার্জি। তাঁর দাবি, বাবার মৃত্যুর পরও দীর্ঘদিন ধরে বিধায়কের কাছে প্রাপ্য টাকা চেয়েও পুরোপুরি তা পাননি তাঁরা। পাশাপাশি, সম্প্রতি এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নেহা।

বিধায়কের কাছ থেকে কত টাকা পেত ওই অসহায় পরিবার?

নেহার দাবি অনুযায়ী, তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ মুখার্জির সঙ্গে কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিধায়কের ডলি লজের বাড়িতে বেশ কিছু কাজ করে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। সেই কাজের জন্য চার লক্ষ টাকারও বেশি পাওনা ছিল বলে দাবি নেহার। ২০১৮ সালে দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। নেহার বক্তব্য, সেই সময় তাঁদের বাড়িতে এসে কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও সমস্যা হলে তাঁকে জানাতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বারবার টাকা চাওয়া সত্ত্বেও পুরো পাওনা মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর।

ভিডিওতে নেহা আরও দাবি করেন, আর্থিক পাওনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর বাবা। সেই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন এবং আত্মহত্যা করেন। বাবার মৃত্যুর পরও পরিবারের আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালে তাঁর ভাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ফের বিধায়কের কাছে টাকা চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ নেহার। ওই বছরই তাঁর মায়ের কিডনির অসুখ ধরা পড়ে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁদের নিজেদের বাড়িও বিক্রি করতে হয় বলে জানান তিনি।

নেহার বক্তব্য, মায়ের চিকিৎসার কথা জানিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি তোমার হিসেবে পাঠিয়েও তাঁরা নিজেদের প্রাপ্য টাকা চেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বারবার অনুরোধ করার পর কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু চার লক্ষ টাকারও বেশি পাওনার পরিবর্তে বিভিন্ন কিস্তিতে সব মিলিয়ে মাত্র ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। সেই টাকা অল্প অল্প করে পাওয়ায় মায়ের চিকিৎসার কাজে তা যথাযথভাবে ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে ভিডিওতে জানিয়েছেন নেহা।

নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরে নেহা জানান, বর্তমানে তাঁর বাবা, মা ও ভাই কেউই বেঁচে নেই। জীবনে সব হারিয়ে ফেলার পরই তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, একটি পরিবার যখন চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন কীভাবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মানুষ এভাবে দায় এড়িয়ে যায়? নেহার বক্তব্য, কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি বিধায়ক হিসেবে জয়ী হওয়ার পর তাঁরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো নিজেদের প্রাপ্য টাকা ফিরে পাবেন তাঁরা। কিন্তু সেই আশাও পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

আরও পড়ুন: মমতা ব্যানার্জি গ্রেফতার, দিল্লিতে ধুন্ধুমার…! আজকের সেরা ১০ খবর (১০ অক্টোবর)

এখানেই শেষ নয়। পরবর্তী একটি ভিডিওতে নেহা দাবি করেন, এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ খোলার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভিডিও করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, এমনকি তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ফের ভিডিও করে নিজের বক্তব্য সামনে আনেন নেহা। তবে টাকা না মেটানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগগুলি নিয়ে বিধায়কের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

google button