হাইকোর্টের ডেডলাইন পার, আত্মসমর্পণ না করে সুপ্রিম কোর্টে প্রশান্ত বর্মণ

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আদালতের নির্দেশ অমান্য করলেন প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman)। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) মঙ্গলবার একটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত ও পলাতক ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত বর্মনকে ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে  আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল, সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, তিনি এই নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এদিকে হাজিরা না দিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ তো অমান্য করেছেন, উল্টে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিডিও।

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ প্রশান্ত বর্মণ

প্রশান্ত বর্মণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, যারা আইনের প্রতি  শ্রদ্ধা দেখায় না, আদালতকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। “আইনের প্রতি যার কোনো শ্রদ্ধা নেই, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে,” বলেছে বেঞ্চ।  বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়কে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রশান্ত বর্মণের বেতন এবং তাঁর প্রাপ্য অন্য কোনো চাকরিজনিত সুবিধা যদি এখনও প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে তা স্থগিত করতে হবে। এদিকে শীর্ষ আদালতে অপসারিত বিডিও মামলা দায়ের করেছেন। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।

শীর্ষ আদালতে অপসারিত বিডিও মামলা দায়ের করেছেন। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা। মামলাকারীর অভিযোগ, খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্তকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কয়েক মাস আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার হলেও পুরনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

১৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হতে পারে

এর আগে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল, ৪৮ ঘণ্টা পরেই প্রশান্তের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে হবে। তাঁর বেতন বন্ধ করা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তবে এখনও তিনি ধরা দেননি। উল্টে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। মামলাকারী জানিয়েছেন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া দীর্ঘ। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানি। ওই দিন আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হলে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

google button