মেট্রোর জন্য হারিয়েছিলেন ঘর, সাত বছর পর বাড়ি ফিরে পাচ্ছেন বৌবাজারের বাস্তুহারারা

Published:

Kolkata Metro

অনন্যা সরকার, কলকাতা: এক রাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু। চোখের সামনেই দেওয়ালগুলোতে চিড় ধরতে শুরু করে, দ্রুত বড় হতে থাকে ফাটলগুলো। তারপরই ঘটে সেই আকস্মিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হুড়মুড় করে ধসে পড়ে বউবাজারের একাধিক বাড়ি। অনেক পরিবারকে কেবল পরনের কাপড়টুকু সম্বল করেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। ২০১৯ সালের ৩১ আগস্টের সেই দিনটি এখনও চোখের সামনে দুঃস্বপ্নের মতো ভেসে ওঠে বৌবাজারের দুর্গা পিতুরি লেন ও স্যাকরাপাড়া লেনের বাসিন্দাদের। 

ওই ঘটনার পর সাতটা বছর বিভিন্ন হোটেল ও অস্থায়ী ভাড়াবাড়ি হয়ে উঠেছিল তাঁদের ঠিকানা। অবশেষে দুর্গাপূজার কয়েক দিন আগে সেই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান ঘটলো। বাস্তুহারা পরিবারগুলো তাঁদের পুরনো পাড়ায় ফিরে এলেন, তবে নিজেদের আদি বাড়িতে নয়। নবনির্মিত ও মজবুত বাড়ি পেয়েছেন তাঁরা। কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (Kolkata Metro Rail Corporation Limited) প্রতিশ্রুতিমতোই ঘর হারানো পরিবারগুলির জন্য নতুন বাড়িগুলি নির্মাণ করে দিয়েছে।

কী ঘটেছিল সাত বছর আগে?

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজের জন্য বৌবাজারের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে ঘটে বিপর্যয়। মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ধস নামে। তাতে ২৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। তাছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ২৮টি বাড়ি। দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাকরা পাড়া লেন, হিদারাম ব্যানার্জী স্ট্রিট, মদন দত্ত লেনের বাড়িগুলিতে একের পর এক ফাটল ধরতে শুরু করে। পরে প্রশাসনের নির্দেশে অনেক পরিবারকে তাদের বাড়ি খালি করতে হয়েছিল। 

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই রাস্তা মেরামতে তৎপর রাজ্য, আসছে নয়া অ্যাপ, থাকবে একাধিক সুবিধা

সাত বছর পর আজ, বৃহস্পতিবার ‘অরুণোদয়’ নামের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আশা সেন, অর্চনা রায়,শর্মিষ্ঠা দাস, রাজলক্ষ্মী সেন, সন্তোষ সাউ, দীপক গুপ্ত, স্বপন বরাল, রাজদীপ বরাল এবং জয়দীপ বরালের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় এবং বিধায়ক সজল ঘোষ। এছাড়া, ওই দুর্ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা স্থানীয় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-ও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বরূপ ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৭ সালের আগস্ট মাসের মধ্যেই সবকটি পরিবারকে তাদের বাড়ি হস্তান্তর করা হবে। কাউন্সিলরের ভূমিকার প্রশংসা করে সজল ঘোষ বলেন, বিশ্বরূপ শুরু থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাপস রায় বউবাজারের বাসিন্দাদের সহযোগিতার কথা স্বীকার করেন। তবে, কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এই পুরো প্রক্রিয়ায় কেএমআরসিএল (KMRCL)-এর ভূমিকায় অসন্তুষ্ট। তাঁদের মতে কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ আরও মানবিক হতে পারত। এই জটিলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কেবল বাড়িয়েই তুলেছে।

google button