প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিট বিতর্ক নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে যুব সমাজের আন্দোলন। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) এই আন্দোলন এখন আর রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই, মুম্বই, পুণে, নাগপুর-সহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে দিল্লিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আর এবার এই বিক্ষোভ মূলক পরিস্থিতি নিতে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আন্দোলনকারীদের বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ
গত সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে লক্ষাধিক পড়ুয়া সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। আর ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মিছিল আটকাতে নাকি দিল্লি পুলিশ হিংস্রভাবে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বলপ্রয়োগ করেছিল। অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাননি মহিলা আন্দোলনকারীরা। সোমবারের ওই ঘটনার পর টানা দু’দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় এই বিক্ষোভ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে অবশেষে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, “এইসব আন্দোলনের আসলে সহজ টার্গেট ছিল পার্লামেন্ট অধিবেশন। ওই সময় ওখানে প্রেস মিডিয়া বেশি থাকে, তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল তাঁরা।”
বিদেশি শক্তির মদত বলে কটাক্ষ দিলীপের
দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “পাকিস্তান-বাংলাদেশ-নেপালে যেমন গণআন্দোলন হয়েছিল, বিরোধীরা সেই একই পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করতে চাইছে। মোট কথা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল বা শ্রীলঙ্কা বানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সফল হবে না। কৃষক আন্দোলনের মতো পরিণতি হবে এবারও। একই লোক…এরা যাঁরা কৃষক আন্দোলন করে, এরাই ছাত্র আন্দোলন করে, এরাই আবার মহিলা আন্দোলন করায়।” এছাড়াও তিনি এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত আছে বলে মনে করছেন। তাঁর দাবি, “এরা হল পেশাদার বিদেশি লোকদের কাঠের পুতুল। তাই উৎপাত করবে। ভুলে যাবেন না সরকার মোদী এবং অমিত শাহের। যথাসময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিতে পুনর্নিয়োগ, নবীকরণ নিয়ে কড়া নিয়ম নবান্নর
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকারীদের সরাসরি বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “বিদেশের দালাল ওরা। প্রথমে যাঁরা আন্দোলন করতে এসেছিল, এখন তাঁরাও বুঝতে পারছে তাঁদের বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এদের পাশে মানুষ নেই, জনতা নেই, ভোটে হেরে যায়। তারপর ওইখানে লাফালাফি করে।” প্রসঙ্গত, আন্দোলনের প্রভাব রাজধানীর বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কর্নাটক, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং হরিয়ানাতেও একই ইস্যুতে আন্দোলনের। এই অবস্থায় কোথাও আন্দোলন আরও তীব্র হলে তা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।










