সরকারি চাকরিতে পুনর্নিয়োগ, নবীকরণ নিয়ে কড়া নিয়ম নবান্নর

Published:

New Rules On Rehiring Retired Government Job

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগ হবে আরও কড়াকড়ি (New Rules On Rehiring Retired Government Job), বিশেষ নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে যে, রাজ্যের বিভিন্ন দফতর ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলি পুরনো এজেন্সির মেয়াদ বাড়াতে অর্থ দফতরের কাছে বারবার আবেদন করছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার অর্থ দফতরের অনুমোদন ছাড়াই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এবার সেই নিয়মে আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন।

বিশেষ নির্দেশ প্রশাসনের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অবসরের পর কর্মীদের পুনর্নিয়োগ বা ম্যানপাওয়ার এজেন্সির চুক্তি বাড়ানো কোনওভাবেই নিয়মিত প্রশাসনিক প্রথা হতে পারে না। অর্থাৎ এখন থেকে আর আগের মতো নিয়মে সরকারি দফতরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগকারী সংস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পুনর্নিয়োগ হবে না। এখন থেকে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মীর অবসরের অন্তত তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন কর্মীদের কাজ শেখানোর সুযোগ থাকে প্রতিটি দপ্তরের প্রধানকে মাসিক ভিত্তিতে এই বিষয়গুলির পর্যালোচনাও করতে হবে।

New Rules On Rehiring Retired Government Job

শূন্যপদের তালিকা প্রতি মাসে পাঠাতে হবে

নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিকল্প কর্মী চিহ্নিত করা, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা এবং সম্ভাব্য শূন্যপদের তালিকা প্রতি মাসে অর্থ দপ্তর, পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কন্ট্রোলিং কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। এবং সময়মতো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না করে পরে এক্সটেনশনের প্রস্তাব পাঠানোকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে। অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পুনর্নিয়োগ শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, অর্থাৎ উপযুক্ত বিকল্প না থাকলে বা জনস্বার্থে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: NEET বিতর্কে পড়ুয়াদের বড় আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, করলেন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও

জানা গিয়েছে, এই নিয়ম শুধু সরকারি দফতর নয়, স্থানীয় প্রশাসন- পুরসভা, পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়াও রাজ্য সরকারের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, অন্যান্য সরকার অধিগৃহীত সংস্থার ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য হবে। আসলে সরকারের মতে, এই ধরনের প্রবণতা সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে অধস্তন কর্মীদের পদোন্নতির সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং আর্থিক শৃঙ্খলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনুমোদন ছাড়া কোনও কর্মীর মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নিয়োগ করা হলে পরে সেই অনুমোদন চাওয়ার প্রবণতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হবে।